বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল রপ্তানির সুযোগ ইরানের
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ১৩:২৯
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা চুক্তি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও বড় পরিসরে তেল ও জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ ফিরে পেতে পারে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন সক্ষমতা এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় ইরান তেল রপ্তানি বাড়াতে পারলে বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে দেশটির অর্থনীতিতে।
বড় পরিসরে রপ্তানির সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের কাছে বর্তমানে ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন ট্যাংকার ও ভাসমান সংরক্ষণাগারে মজুদ রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি সুপারট্যাংকার ইরানি বন্দর ছেড়ে ক্রেতা দেশের দিকে রওনা দিয়েছে, যা রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হওয়ার প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ব্যাংকিং, বিমা ও শিপিং খাতের ওপর থাকা বাধা কমে যাবে। এতে শুধু রপ্তানিই নয়, বিদেশে আটকে থাকা তেলের অর্থ ফেরত আনার সুযোগও তৈরি হবে।
উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা
নিষেধাজ্ঞার আগে ইরান দৈনিক প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। নিষেধাজ্ঞার সময় তা নেমে আসে প্রায় ৩ লাখ ব্যারেলে। তবে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি না হওয়ায় উৎপাদন দ্রুত পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, ব্যাংকিং ও পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং হরমুজ প্রণালীর নৌপথ নিরাপদ থাকলে ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই ইরান যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
গবেষণা সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইরান তুলনামূলক দ্রুত উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হতে পারে। কারণ দেশটির তেলক্ষেত্রগুলোর বড় ধরনের স্থায়ী ক্ষতি হয়নি এবং ট্যাংকার বহরও কার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আয়ের সম্ভাবনা
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত চুক্তির প্রথম দুই মাসেই ইরান প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বৈশ্বিক বাজারে আবারও ইরানি তেলের প্রবেশ বাড়বে।
তবে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরতে সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তেলক্ষেত্রগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত ছিল এবং অনেক কূপে রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সমঝোতা এখনো একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোর মধ্যে রয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসার ঝুঁকি রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে বড় আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যেতে দ্বিধা করতে পারে।
তবুও আপাতত এই উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতার নতুন ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন
- • বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল যে দলগুলো
- • ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী, ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার
- • অভিনেতা আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি পুলিশ
- • অর্থপাচার মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
- • দেশের ৬ জেলায় বিকেল ৪টার মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা
- • অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল: নরেন্দ্র মোদি
- • জামিন পেলেন ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রেজানুর ইসলাম
- • সিরিজের শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
- • প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষ্যে বন্ধ থাকবে মৌলভীবাজারের ৯২ চা বাগান
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
- • দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীর, সামনে দীর্ঘ প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া
- • সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সক্রিয় দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে নথি
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
