২৯ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ০০:০৪

শিরোনাম
১২ আগস্ট দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ২ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক ১৫৭ বছরের পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
শিরোনাম
১২ আগস্ট দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ২ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক ১৫৭ বছরের পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

সংসদে আপাতত অনুমোদন পাচ্ছে না গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ

সংসদে আপাতত অনুমোদন পাচ্ছে না গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০০:৫১

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গভাবে পাস করার এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদে বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন (বরিশাল-৩) এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উত্থাপন করেন।

এর আগে, গত ১২ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিধি অনুযায়ী উত্থাপন করা হয়। পরে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, যারা এসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়।

অবশিষ্ট ২০টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি এখনই বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন না করে ভবিষ্যতে আরও পরিমার্জন ও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল আকারে এখনই সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই ২০টি অধ্যাদেশ আপাতত সংসদে অনুমোদন পাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে এসব অধ্যাদেশের কার্যকারিতা বিলুপ্ত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে তা কার্যকারিতা হারায়।

বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশসহ মোট ২০টি অধ্যাদেশ বর্তমান অধিবেশনে আইনি বৈধতা পাচ্ছে না। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

অন্য ১৬টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে এখনই বিল আকারে না এনে ভবিষ্যতে নতুন করে যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী করে সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন।

যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল ও সংরক্ষণের জন্য বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো— জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪; সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল হিসেবে আনা হচ্ছে না; এগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে নতুন বিল হিসেবে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বিষয়ে বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে।

এই ১৬টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে—

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫; গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫; দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬; তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬সহ অন্যান্য।

যেসব অধ্যাদেশে বিরোধী দল আপত্তি জানায়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬।

পূর্ণাঙ্গভাবে পাসের জন্য সুপারিশকৃত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আইন রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৪; বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (সংশোধন), বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন (নাম পরিবর্তন), গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (দ্বিতীয় সংশোধন), জাতীয় সংসদ সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন), সাইবার সিকিউরিটি, সরকারি চাকরি (সংশোধন), জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কল্যাণ ও পুনর্বাসন এবং স্মৃতিসৌধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোন কোন ধারা সংশোধন করা হবে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এই ১৫টি অধ্যাদেশের মধ্যে রয়েছে—

নারী ও শিশু নির্যাতন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন), ব্যাংক রেজুলেশন, সন্ত্রাসবিরোধী, ফৌজদারি কার্যবিধি (দ্বিতীয় সংশোধন), জাতীয় ডাটা ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন), মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন, পুলিশ কমিশন, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন), মানব পাচার প্রতিরোধ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন), বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) সংক্রান্ত অধ্যাদেশ।

আরও পড়ুন