যে কারণে সৌদির সঙ্গে পরমানবিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৩৮
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ এই চুক্তিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। বিভাগটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর ফলে সৌদির পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় ধরনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি পেতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও, তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো অস্থিতিশীল অঞ্চলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াবে।
নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষর
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বিভাগটির বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুটি চুক্তি একসঙ্গে কয়েক দশকব্যাপী বহু-বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়া
সৌদি সরকারও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তি জ্বালানি খাতে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার সম্প্রসারণ। তারা আরও জানায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পরই এই সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেয়া হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই চুক্তির ঘোষণা এলো। দীর্ঘদিনের মার্কিন মিত্র সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এছাড়া চুক্তির ঘোষণা এসেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণার মাত্র দুই দিন পর।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ
চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা না হলেও, আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষার পর সৌদি আরবকে নিজের ভূখণ্ডেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত একটি সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি উৎপাদন করা হবে, যাতে সৌদিকে আর আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে না হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্পের আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। কারণ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনকারী স্থাপনা নির্মাণে মার্কিন কোম্পানিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এক বিবৃতিতে বলেন, নিশ্চিত থাকুন, এই চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখে। একই সঙ্গে এতে বিশ্বের সেরা পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের দক্ষতা ব্যবহার করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রেই উন্নয়ন করা হয়েছে।
প্রতিফলন/টিএস
আরও পড়ুন
- • শাকিব খানের স্পর্শে খারাপ লাগেনি, জানালেন সাবিলা নূর
- • রাজধানীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বসছে ১ হাজার নতুন ক্যামেরা
- • প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক
- • ১৫৭ বছরের পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার
- • স্নিগ্ধা পুর্বপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইল করেছে, দাবি আশিয়ান গ্রুপের
- • জাপানে ৭.১ মাত্রার কম্পন, শপিংমলে আটকা বহু মানুষ
- • ফ্যামিলি কার্ডের লোভ দেখিয়ে ‘মধ্যরাতের ডাক’!
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- • আলোচনায় বসতে ‘ব্যাকুল হয়ে উঠেছে’ ইরান: ট্রাম্প
- • ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি
- • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের
- • পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ
- • ইরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফর, শান্তি ও বাণিজ্যে জোর
- • শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়কে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি
