২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ০২:০১

শিরোনাম
চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী ভারতের সাথে 'ডিভোর্স' হতে পারে না: জিএম সিরাজ চীন সফরে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার সম্ভাবনা কম ঢাকায় রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা প্রধানমন্ত্রীর
শিরোনাম
চার দিনের সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশী ভারতের সাথে 'ডিভোর্স' হতে পারে না: জিএম সিরাজ চীন সফরে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে তুরস্কের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খোলার সম্ভাবনা কম ঢাকায় রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা প্রধানমন্ত্রীর

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ‘ইতিবাচক’, গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ‘ইতিবাচক’, গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জুন, ২০২৬, ১০:৪৮

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নিতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফা একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা এবং কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সমঝোতার ভিত্তিতে গত ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আলোচনার কথা থাকলেও লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার প্রতিবাদে তা স্থগিত করে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান পুনরায় হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

রোববারের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সূত্র জানায়, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে উদ্বোধনী ৮০ মিনিটের সেশন শেষে সাময়িক বিরতি নেয় ইরানি প্রতিনিধিদল, যার ফলে আলোচনা কিছুটা ধীরগতির হয়।

এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিস্তারিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য একটি কাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির খসড়া প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো নির্ধারণে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি কর্মীদল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকের রাজনৈতিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আলোচকদের নিয়মিত অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপও কাজ করবে। পাশাপাশি ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে সম্মত হয়েছে। এতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং কাতার ও পাকিস্তান এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেও এই আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়ে গেছে, তবুও দুই দেশের সংলাপ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।

আরও পড়ুন