পুরুষত্বহীনতা: কারণ, ধরন ও চিকিৎসা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ জুন, ২০২৬, ১০:১২
ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা পুরুষত্বহীনতা এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন পুরুষ যৌনসঙ্গমের জন্য প্রয়োজনীয় ইরেকশন অর্জন করতে বা তা পর্যাপ্ত সময় ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। মাঝে মধ্যে ইরেকশনে সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এটি যদি নিয়মিত ঘটে, তাহলে তা শারীরিক বা মানসিক কোনো সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশন একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে এর ঝুঁকি বাড়লেও যেকোনো বয়সের পুরুষই এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। লিঙ্গে পর্যাপ্ত রক্তপ্রবাহে বাধা, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, মানসিক চাপ ও উদ্বেগ এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ধরন
ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে সাধারণত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
প্রাথমিক নপুংসকতা: এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি কখনোই স্বাভাবিকভাবে ইরেকশন অর্জন করতে পারেন না। জন্মগত বা কাঠামোগত ত্রুটি এর কারণ হতে পারে।
সেকেন্ডারি নপুংসকতা: আগে স্বাভাবিক ইরেকশন হলেও পরবর্তী সময়ে তা ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতিগত নপুংসকতা: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ইরেকশনে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন, একা থাকলে ইরেকশন সম্ভব হলেও সঙ্গীর সঙ্গে তা সম্ভব হয় না। সাধারণত মানসিক কারণ এতে ভূমিকা রাখে।
আংশিক নপুংসকতা: ইরেকশন হলেও তা পর্যাপ্ত দৃঢ় বা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
সম্পূর্ণ নপুংসকতা: কোনো অবস্থাতেই ইরেকশন অর্জিত হয় না।
কীভাবে ঘটে ইরেকশন
ইরেকশন একটি জটিল নিউরোভাসকুলার প্রক্রিয়া। যৌন উত্তেজনার সময় মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র থেকে সংকেত পাঠানো হয়। এর ফলে লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। রক্ত লিঙ্গের ভেতরের স্পঞ্জসদৃশ দুটি গঠন—কর্পোরা ক্যাভেরনোসায় জমা হয়ে লিঙ্গকে দৃঢ় ও স্ফীত করে। এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধাপে সমস্যা দেখা দিলে ইরেকটাইল ডিসফাংশন হতে পারে।
ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে—
ডায়াবেটিস
উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ কোলেস্টেরল
স্থূলতা
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
প্রোস্টেট অস্ত্রোপচার
রেডিয়েশন থেরাপি
হৃদ্রোগ ও রক্তনালিজনিত সমস্যা
এসব রোগ ও অভ্যাস স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করে, যা স্বাভাবিক ইরেকশন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
চিকিৎসা কী
ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার কারণ ও তীব্রতার ওপর। অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার এবং মানসিক সহায়তার মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি সম্ভব।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করা হয়। বহুল ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল ও অ্যাভানাফিল। এসব ওষুধ লিঙ্গে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে এবং ইরেকশন অর্জন সহজ করে।
তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। বিশেষ করে হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সমস্যাটি লুকিয়ে না রেখে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদক্ষেপ।
সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এতে শুধু যৌনস্বাস্থ্যের উন্নতি হয় না, আত্মবিশ্বাস ও দাম্পত্য সম্পর্কও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হয়।
আরও পড়ুন
- • ম্যাচের প্রথম গোল করে এগিয়ে গেল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা
- • নোরা ফতেহির সঙ্গে কানাডার মঞ্চ মাতালেন বাংলাদেশের সঞ্জয়
- • ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে জয়ের লক্ষ্যে কানাডা, মুখোমুখি বসনিয়া
- • আদ্-দ্বীনের রোগীদের ৬ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ
- • আজ কানাডায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
- • রোববার জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর
- • কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত
- • অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে একই স্কোয়াডে খেলবে বাংলাদেশ
- • লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে পুনরায় যুদ্ধে নামার বার্তা ইরানের
- • জবির এমসিজে বিভাগে সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার আয়োজিত
- • পাবনায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও ৩ জনের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩
- • ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর সামাজিক লড়াই
- • আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রযুক্তির আধিপত্য
- • কোরবানির বর্জ্য: জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি
- • শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম ম্যাচ
- • শিল্প বিপ্লবের নতুন ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব
- • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট হতে পারে শিক্ষার্থীদের জন্য আশির্বাদ
- • রোহিঙ্গা: ভুলে যাওয়া সংকটের ভার
