২০ জুন ২০২৬, শনিবার, ১৪:৫৯

শিরোনাম
আজ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়ালো বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে অগ্রগতির প্রশংসা ইউএন উইমেনের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক আগের ইউনিফর্মে ফিরছে পুলিশ, গেজেট প্রকাশ
শিরোনাম
আজ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়ালো বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে অগ্রগতির প্রশংসা ইউএন উইমেনের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক আগের ইউনিফর্মে ফিরছে পুলিশ, গেজেট প্রকাশ

মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ

মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ০৯:৪৫

সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে আগামীকাল রোববার মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে চার দিনের সফরে যাবেন চীনে। দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অন্তত দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হতে পারে। এর মধ্যে চীনের সঙ্গে ১৬টি সমঝোতা স্মারক এবং তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। সফর শেষে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি যৌথ ইশতেহারও ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আজ শনিবার বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় চালুর চেষ্টা

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, মালয়েশিয়া সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের জুন থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কার্যত বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত। এ ছাড়া প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী দেশটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। শ্রমবাজার, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণ, শিক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া জ্বালানি, কৃষি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল খাদ্য, সুনীল অর্থনীতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে। সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২২ জুন পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। পরে দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবন ইস্কান্দারের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার কয়েকটি বড় শিল্প ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

চীনে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতায় জোর

মালয়েশিয়া সফর শেষে ২২ জুন বিকেলে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। চার দিনের সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ও প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

সফরে বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নয়ন সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, বৃত্তিমূলক শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং চীনা ভাষা শিক্ষাবিষয়ক তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি রয়েছে। বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।

সফরকালে ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবেন তিনি।

ভূরাজনৈতিক বার্তার দিকেও নজর

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, তা নিয়ে কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ছিল। ভারত, চীন, ভুটান ও সৌদি আরব—সবকটি দেশই সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় ছিল।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্যের বার্তা দিতে চেয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মনে করেন, মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। তবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি অন্যান্য বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বিদেশ সফরই আন্তর্জাতিকভাবে পর্যবেক্ষিত হয়। তাই চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়লেও এমন কোনো বার্তা দেওয়া উচিত হবে না, যাতে বাংলাদেশ এককভাবে কোনো বৃহৎ শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে মনে হয়।

আরও পড়ুন