২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ২৩:৫৫

শিরোনাম
১২ আগস্ট দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ২ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক ১৫৭ বছরের পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
শিরোনাম
১২ আগস্ট দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯২ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার, আটক ২ প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক ১৫৭ বছরের পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন

বন্যা-পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত ৭ জেলা, প্রাণহানি বেড়ে ৫১

বন্যা-পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত ৭ জেলা, প্রাণহানি বেড়ে ৫১

জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬, ১১:১১

টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে দেশের সাত জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। একই সঙ্গে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ লাখ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে।

এসব এলাকায় পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি। মোট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন।

মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। সেখানে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন।

চট্টগ্রামে ভয়াবহ দুর্ভোগ

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। ৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ দশমিক ৭ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বহু এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি রয়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানিতে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বন্যার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। কাঁচা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, নষ্ট হয়েছে ফসল ও গবাদিপশু।

বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শেলী আক্তার জানান, পাঁচ দিন ধরে তিনি ঘুমাতে পারছেন না। ছয় সন্তান নিয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি মাচায় দিন কাটাচ্ছেন।

পাহাড়ি জেলাগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

চট্টগ্রামের পাশাপাশি কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বহু মানুষ এখনো দুর্ভোগে রয়েছেন।

কক্সবাজারে কিছু এলাকায় পানি কমলেও চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদর উপজেলার অনেক জায়গায় এখনো পানি রয়েছে। কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে।

তিন পার্বত্য জেলায় পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে। ভেঙে গেছে সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতু। ডুবে গেছে আমন ও আউশের বীজতলা, জুমখেত ও সবজিক্ষেত।

বান্দরবানে পরিস্থিতি এখনো সবচেয়ে নাজুক। সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জেলা শহরের অনেক এলাকা পানির নিচে রয়েছে। বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশে এখনো পানি জমে আছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকলের নিম্নাঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করায় কিছু মানুষ বাড়ি ফিরছেন। তবে অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-লংগদু সড়কের পানি নেমে যাওয়ায় যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

সিলেট বিভাগেও বন্যা

হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলে এখনো দুই থেকে আড়াই ফুট পানি রয়েছে।

মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার মধ্যে পাঁচটিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৭ হাজারের বেশি পরিবার।

এদিকে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম ও যশোরের বিভিন্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে পানি বাড়ছে। কয়েকটি এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি এক দিনের মধ্যে কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও উজানের পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি।

আরও পড়ুন