১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০৯:৫৯

শিরোনাম
‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা’, সমালোচনার পর মুখ খুললেন এমপি জেবা চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নন্দিনী হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হবে, আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর গম চাষে তামাকের জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা কৃষিমন্ত্রীর আড়াই বছরে জাপানে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বিকেটিটিসির চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড পিলারের নিচের মাটি নয়, সরানো হয়েছে নির্মাণকাজের অস্থায়ী রাস্তা: সড়ক ও রেলমন্ত্রী সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রবেশ বা ত্যাগের প্রথা বাতিল করলেন স্পিকার
শিরোনাম
‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা’, সমালোচনার পর মুখ খুললেন এমপি জেবা চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নন্দিনী হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হবে, আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর গম চাষে তামাকের জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা কৃষিমন্ত্রীর আড়াই বছরে জাপানে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বিকেটিটিসির চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড পিলারের নিচের মাটি নয়, সরানো হয়েছে নির্মাণকাজের অস্থায়ী রাস্তা: সড়ক ও রেলমন্ত্রী সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রবেশ বা ত্যাগের প্রথা বাতিল করলেন স্পিকার

ষাট গম্বুজ মসজিদ: সুলতানি আমলের স্থাপত্য বিস্ময় ও বিশ্ব ঐতিহ্য

ষাট গম্বুজ মসজিদ: সুলতানি আমলের স্থাপত্য বিস্ময় ও বিশ্ব ঐতিহ্য

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:৫৭

​বাগেরহাটের শান্ত প্রকৃতিতে ধীরলয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ষাট গম্বুজ মসজিদ কেবল একটি প্রাচীন ইবাদতখানা নয়; এটি বাংলার সুলতানি আমলের প্রকৌশলবিদ্যা, আধ্যাত্মিকতা এবং আভিজাত্যের এক জীবন্ত মহাকাব্য। ১৫শ শতাব্দীতে নির্মিত এই স্থাপনাটি আজও আধুনিক স্থাপত্যবিদদের কাছে এক অমীমাংসিত বিস্ময়। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো একে 'বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান' (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

​রহস্যঘেরা ইতিহাস ও জনশ্রুতি

​এই মসজিদের গায়ে কোনো নির্দিষ্ট শিলালিপি না থাকলেও এর নির্মাণশৈলী দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণ করে এটি পীর ও মহান শাসক খান জাহান আলীর (রহ.) অমর কীর্তি। লোককথা অনুযায়ী, এই বিশালাকার কালো পাথরগুলো তিনি অলৌকিক ক্ষমতাবলে চট্টগ্রাম বা ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। তবে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি মধ্য এশিয়ার তুঘলক স্থাপত্যরীতির এক অনন্য প্রতিফলন, যা চুন, সুরকি এবং ছোট ইটের নিখুঁত গাঁথুনিতে তৈরি।

​নাম রহস্য: ৬০ না কি ৮১?

​মসজিদটির নাম শুনলে মনে হতে পারে এতে ৬০টি গম্বুজ আছে। কিন্তু বাস্তবে এর ছাদজুড়ে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ এবং চার কোণের মিনারের ওপর আরও ৪টি গম্বুজ—সব মিলিয়ে মোট ৮১টি।

নাম নিয়ে দুটি জোরালো মতবাদ প্রচলিত আছে:

১. ফারসি শব্দ ‘ছাদ গম্বুজ’ (ছাদওয়ালা গম্বুজ) থেকে অপভ্রংশ হয়ে এটি ‘ষাট গম্বুজ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
২. মসজিদের ভেতরে ছাদকে ধরে রাখা ৬০টি পাথরের স্তম্ভ বা পিলারের কারণে অনেকে একে 'ষাট থাম্বজ' থেকে 'ষাট গম্বুজ' বলতে শুরু করেন।

​স্থাপত্যশৈলীর গহীনে এক ভ্রমণ

​১৬০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৮.৫ ফুট পুরু দেয়ালের এই দুর্ভেদ্য কাঠামোটি যেন একটি দুর্গের মতো সুরক্ষিত। ভেতরে প্রবেশ করলে সাতটি সারিতে বিন্যস্ত ৬০টি পাথরের স্তম্ভ চোখে পড়ে, যা মসজিদের বিশাল ছাদকে ধরে রেখেছে।

​চৌচালা গম্বুজ: ছাদের মাঝখানের সাতটি গম্বুজ বাংলার চিরাচরিত ‘চৌচালা’ ঘরের চালের মতো নির্মিত, যা এই মসজিদকে বৈশ্বিক স্থাপত্যে এক অনন্য স্বকীয়তা দিয়েছে।

​আন্ধার ও রওশন কোঠা: সম্মুখভাগের দুটি মিনারের ভেতরে রয়েছে প্যাঁচানো সিঁড়ি। দক্ষিণ-পূর্ব কোণের সিঁড়িটিকে বলা হয় ‘রওশন কোঠা’ এবং উত্তর-পূর্ব কোণেরটিকে বলা হয় ‘আন্ধার কোঠা’। একসময় এখান থেকেই আজান দেওয়া হতো।

​বহুমাত্রিক ব্যবহার: পশ্চিম দেয়ালে ১০টি চমৎকার মিহরাব এবং উত্তর পাশের একটি ছোট দরজার উপস্থিতি নির্দেশ করে যে, এটি কেবল নামাজের স্থান ছিল না; বরং খান জাহান আলীর প্রশাসনিক দরবার বা শিক্ষাকেন্দ্র (মাদ্রাসা) হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

​বর্তমান ও সংরক্ষণ

​বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষিত এই মসজিদ চত্বরে একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর রয়েছে। সেখানে খান জাহান আমলের প্রাচীন মুদ্রা, টেরাকোটা বা পোড়ামাটির ফলক এবং দিঘির বিখ্যাত দুই কুমির ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’-এর মমি সংরক্ষিত আছে। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় এখানে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যা দক্ষিণাঞ্চলের ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ।

​ষাট গম্বুজ মসজিদ কেবল ইট-পাথরের কোনো স্থাপত্য নয়; এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের উন্নত রুচি, মেধা এবং অসীম পরিশ্রমের এক ঐতিহাসিক দলিল। ইতিহাসের এই নীরব সাক্ষী আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় বাংলার এক সোনালী অধ্যায়ের কথা।

আরও পড়ুন