সংসদ অধিবেশনে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৪৬
কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর লক্ষ্যে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিরোধী দলের আপত্তি ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ করে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে বিলটির ওপর বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন (ঢাকা-১২) জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে এর কঠোর সমালোচনা করেন।
বিলের বিরোধিতা করে সাইফুল ইসলাম মিলন বলেন, এই বিলের মাধ্যমে কোটি মানুষের আমানতের সুরক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক বাঁচানো হয়েছে, যা ছিল সাধারণ করদাতার টাকা। এই বিলটি পাস হলে লুণ্ঠনকারীরা আইনি ফাঁক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, আগে নিয়ম ছিল ব্যাংক ডুবলে শেয়ারহোল্ডাররা আগে ক্ষতি বহন করবেন এবং আমানতকারীরা সুরক্ষিত থাকবেন। কিন্তু নতুন আইনি কাঠামোয় সেই চেইন অব কমান্ড ব্যাহত হতে পারে। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা মোকাবিলায় আগের কঠোর আইনি কাঠামো বজায় রাখা জরুরি ছিল।
সাইফুল ইসলাম মিলন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে সুস্পষ্ট আইনি ক্ষমতা ছিল, তা এই বিলের মাধ্যমে সংকুচিত করা হতে পারে, যা ব্যাংক খাতের আস্থা আরও কমিয়ে দেবে।
বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন—এই তিনটিই বর্তমান সরকারের মূল নীতি। আমরা আমানতকারীদের সুরক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বাস্তবতা বুঝতে হবে। ইতিমধ্যে সরকার ব্যাংক খাতে ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে, আরও প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ সময়ে কোনো সরকারের পক্ষে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ বহন করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই বিলের মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা নতুন সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি একটি বিকল্প ব্যবস্থা। এর ফলে শুধুমাত্র লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে মূলধন পুনর্গঠনের সুযোগ থাকবে। এতে আমানতকারীদের আস্থা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডাররা সুরক্ষা পাবেন।
তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, লুণ্ঠনকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং বাজারভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে সচল রেখে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখাই এই বিলের মূল লক্ষ্য।
বক্তব্য শেষে সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব করলে স্পিকার তা ভোটে দেন। তবে সরকারি দলের আপত্তিতে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। এরপর অর্থমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা সংসদে পাস হয়।
আরও পড়ুন
- • জাহানারা ইমামকে "জাহান্নামের ইমাম" বলে কটূক্তি রাকসু নেতার
- • ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- • নোরা ফাতেহির সঙ্গে আবারও নতুন গান নিয়ে আসছেন সঞ্জয় দেব
- • তাজিয়া মিছিলে যুবক হত্যা: ১২ ঘণ্টায় অস্ত্রসহ চারজন গ্রেপ্তার
- • নিজের ছবিযুক্ত নতুন স্মারক পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
- • নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে মালয়েশিয়া
- • ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের প্রাণহানি
- • ভিএআরে ভাঙল ইরানের নকআউটের স্বপ্ন
- • মালয়েশিয়ার ২ হাজার বন্দিদের ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান
- • বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
- • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
- • ম্যাচ উপভোগ করতে ঢাবিতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত
- • শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত নতুন নির্দেশনা
- • প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের: গালিবাফ
