সাহিত্য কি এখনো প্রতিবাদের ভাষা?
হেনা শিকদার
প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৪৮
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, যখনই সমাজ বা রাষ্ট্রে শোষণের কালো মেঘ জমেছে, তখনই কলম গর্জে উঠেছে কামানের চেয়েও তীব্র বেগে। নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতা কিংবা সুকান্তের 'আঠারো বছর বয়স' বাঙালি মননে প্রতিবাদের বীজ বুনে দিয়েছিল সাহিত্যই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আজকের এই হাই-স্পিড ইন্টারনেট আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে সাহিত্য কি এখনো তার সেই ধার ধরে রাখতে পেরেছে? নাকি প্রতিবাদ এখন কেবল ফেসবুকের 'রিঅ্যাক্ট' আর টুইটারের 'হ্যাশট্যাগ'-এই সীমাবদ্ধ?
অনেকেই মনে করেন, বর্তমান সময়ে মানুষের ধৈর্য কমেছে, তাই বড় কোনো উপন্যাস বা দীর্ঘ প্রবন্ধ পড়ে বিপ্লব ঘটানোর সময় কারো নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সাহিত্য মানে কেবল মোটা মলাটের বই নয়; সাহিত্য হলো একটি বোধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতিবাদ ক্ষণস্থায়ী, চব্বিশ ঘণ্টা পর যা টাইমলাইনের নিচে হারিয়ে যায়। কিন্তু একটি প্রতিবাদী কবিতা বা গল্প যুগের পর যুগ মানুষের মনে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে রাখে। তথাকথিত খবর আমাদের তথ্য দেয়, কিন্তু সাহিত্য আমাদের সেই মানুষের জুতোর তলায় পা দিয়ে অনুভব করতে শেখায় যারা শোষিত হচ্ছে। "তলোয়ারের চেয়ে কলম শক্তিশালী" এই পুরনো প্রবাদটি আজও মিথ্যে হয়ে যায়নি। বরং আজকের কোলাহলপূর্ণ পৃথিবীতে নিস্তব্ধ একগুচ্ছ শব্দ অনেক সময় বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
প্রতিবাদের ভাষা এখন আর কেবল লাইব্রেরির তাকে বন্দি নেই। সাহিত্যের রূপ বদলেছে। এখন ইন্সটাগ্রাম বা ফেসবুকে ছোট ছোট পঙক্তিতে ফুটে উঠছে ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা। ব্লগে বা অনলাইন পোর্টালে ধারালো লেখনী তাৎক্ষণিক জনমত গঠনে সাহায্য করছে। আবার বর্তমান সময়ের র্যাপ বা অল্টারনেটিভ মিউজিকের লিরিকস আসলে আধুনিক সাহিত্যেরই একটি রূপ, যা সরাসরি ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলছে। আজকের লেখককে লড়তে হচ্ছে সেন্সরশিপ এবং অ্যালগরিদমের সাথে। তবুও যখন কোনো কার্টুনিস্টের রেখায় বা কবির ছন্দে ক্ষমতার দম্ভকে চ্যালেঞ্জ করা হয়, তখন বোঝা যায় সাহিত্য মরেনি। বরং সাহিত্য এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। কারণ, সরাসরি স্লোগান যা বলতে পারে না, রূপক আর উপমায় সাহিত্য তা সহজে বুঝিয়ে দেয়।
সাহিত্য কেবল প্রতিবাদের ভাষাই নয়, এটি প্রতিবাদের সবচেয়ে মার্জিত এবং ধারালো মাধ্যম। শাসক ভয় পায় সেই কলমকে, যা সত্য লিখতে জানে। যতক্ষণ সমাজে বৈষম্য থাকবে, যতক্ষণ মানুষের বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার চেষ্টা হবে, ততক্ষণ সাহিত্যই হবে মানুষের শেষ আশ্রয় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।
সাহিত্য কেবল আয়না নয় যা সমাজকে দেখায়, এটি একটি হাতুড়িও যা দিয়ে পুরনো জরাজীর্ণ সমাজকে ভেঙে নতুন কিছু গড়া সম্ভব।
লেখক,
হেনা শিকদার
দর্শন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
আরও পড়ুন
- • ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব ইরানের
- • সাপাহার সীমান্তে ৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি
- • বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার
- • আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন অব্যাহত
- • মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন হচ্ছে, গঠন হবে পৃথক ট্রাইব্যুনাল :স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- • ইরান এখন বিশ্বের কাছে শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি-পেজেশকিয়ান
- • ট্রাম্পের শান্তি চুক্তিতে যুদ্ধ থামলেও কাটেনি মার্কিনদের উদ্বেগ
- • রোববার শুরু ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন
- • চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড
- • ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে উড়িয়ে দিল কানাডা
- • কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
- • বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার ২ হাজার বন্দিদের ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- • বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর
- • বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী
- • ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান
- • যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
