২০ জুন ২০২৬, শনিবার, ১৭:২৩

শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি চুক্তির সম্ভাবনা, আলোচনায় থাকবে তিস্তা প্রকল্প: পররাষ্ট্র সচিব আজ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়ালো বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে অগ্রগতির প্রশংসা ইউএন উইমেনের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক
শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭টি চুক্তির সম্ভাবনা, আলোচনায় থাকবে তিস্তা প্রকল্প: পররাষ্ট্র সচিব আজ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়ালো বাংলাদেশের নারী উন্নয়নে অগ্রগতির প্রশংসা ইউএন উইমেনের শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ জাতি গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন তারেক রহমান, গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার ও বিনিয়োগ কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের ফেসবুক আইডি হ্যাক

বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের, মহাবিপদে ভারত

বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু চীনের, মহাবিপদে ভারত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬, ১৫:৪৬

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় গড়ে ওঠা এই বিশাল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের পরিকল্পনাও জোরদার করছে নয়াদিল্লি।

চীনের নির্মাণাধীন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের উৎপাদনক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এর জবাবে ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসির তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।

তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে বড় পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শুরু হলেও ভারতের এসইউএমপি এখনো সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও শুরু হয়নি।

ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর সিয়াং নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। নদীটি অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় দেওয়া এক লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার জনগণের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। তবে এ বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ভারতের প্রস্তাবিত এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানে সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে।

এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ জোরদার করা হচ্ছে।

 

প্রতিফলন/ এস এস

আরও পড়ুন