ইসরায়েল-লেবানন শান্তিচুক্তিতে কী আছে, কী নিয়ে বিতর্ক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি কাঠামোগত শান্তিচুক্তি সই হয়েছে। ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন, হিজবুল্লাহর অবস্থান এবং ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি কেবল শুরু। তাঁর ভাষায়, সামনে আরও অনেক কাজ বাকি, আর প্রথম পদক্ষেপটিই সবচেয়ে কঠিন।
চুক্তিতে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মাওয়াদ, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে লেবাননের সেনাবাহিনী পুরো দেশের নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ নেবে। এর আগে অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ ও তাদের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে হবে, যা মূলত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে ইসরায়েল।
বাস্তবায়ন তদারকিতে ‘লেবাননের জন্য সামরিক সমন্বয় গ্রুপ’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গঠন করা হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি ‘পাইলট জোনে’ ইসরায়েলি সেনা সরে যাবে এবং সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে লেবাননের সেনাবাহিনী। নিরস্ত্রীকরণ সফল হলে আন্তর্জাতিক সহায়তায় পুনর্গঠন শুরু হবে এবং বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা নিজ এলাকায় ফিরতে পারবেন।
চুক্তি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সমন্বয়ে ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি লেবাননের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ৩ কোটি ডলারের বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম বলেছেন, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দেশটির দখলকৃত সব ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও একে সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে চুক্তির বিরোধিতা করছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি আলোচনায় অংশ নেয়নি। তাদের দাবি, কোনো শর্ত ছাড়াই ইসরায়েলকে লেবানন ছেড়ে যেতে হবে। হিজবুল্লাহর নেতারা সতর্ক করেছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ করলে তা গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা সংঘাতে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়েছে। হাজারো মানুষ নিহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল এখনো লেবাননের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের দিনও দক্ষিণাঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই চুক্তি সংঘাত কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলেও স্থায়ী শান্তি নির্ভর করবে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার এবং উভয় পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
আরও পড়ুন
- • প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রশংসায় জাতীয় সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত
- • বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক
- • কুমিল্লায় রেস্টুরেন্টে ফেলে যাওয়া শিশুর পরিবারের সন্ধানে পুলিশ
- • ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহ, স্পেনে ৩ শতাধিক মৃত্যু
- • ব্রাজিলের সমর্থক, তবে মেসিরও ভক্ত -তটিনী
- • হরমুজ পাড়ি দিয়ে দেশের পথে ১১৫ দিন আটকে থাকা ক্রুড তেলবাহী জাহাজ
- • বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-এ আরও পাঁচ দল, মোট নিশ্চিত ২৪
- • ইসরায়েল-লেবানন শান্তিচুক্তিতে কী আছে, কী নিয়ে বিতর্ক
- • মালয়েশিয়ার ২ হাজার বন্দিদের ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান
- • বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
- • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
- • ম্যাচ উপভোগ করতে ঢাবিতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত
- • শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পর্কিত নতুন নির্দেশনা
- • প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ইরানের: গালিবাফ
