তদন্তেই থমকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রায় ২ হাজার মামলা
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৫৯
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা, সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক মামলার রায় হলেও, দেশের বিচারিক আদালতে দায়ের হওয়া প্রায় দুই হাজার মামলার একটিরও বিচার এখনো শুরু হয়নি। দীর্ঘ তদন্ত, বিপুলসংখ্যক আসামি এবং তদন্তের জটিলতাকে এই বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পরিণতি পায়। ইতিহাসে ‘৩৬ জুলাই আন্দোলন’ নামে পরিচিত এ অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার বর্তমানে দুই ধারায় এগোচ্ছে—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দেশের নিম্ন আদালত।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অন্তত ২৪টি মামলার বিচার চলছে। এছাড়া আরও ১০টি মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
এসব রায়ের মধ্যে প্রথম মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া চানখারপুল হত্যাকাণ্ড, আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ পোড়ানো, রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা, রামপুরায় এক যুবককে গুলি করে হত্যা এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় ৫৫ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮০টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে, যার বেশিরভাগই শেষ পর্যায়ে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আরও ৪০০ মামলা তদন্তে আনা হচ্ছে। শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা পূরণে দুটি ট্রাইব্যুনাল একসঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন থানা ও আদালতে প্রায় ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৯৯টি হত্যা মামলা। তবে এসব মামলার একটিরও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়নি।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এসব মামলা সাধারণ ফৌজদারি মামলার মতোই পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত পৃথকভাবে করতে হওয়ায় তদন্তে সময় লাগছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মামলায় শত শত ব্যক্তিকে আসামি করায় তদন্ত কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ এস এম শাহজাহান বলেন, কোথাও ৫০০, কোথাও ৬০০ বা ৭০০ জন আসামি থাকায় তদন্ত শেষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্ত শেষ না হলে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার শুরু করা সম্ভব নয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম এগোলেও নিম্ন আদালতের মামলাগুলো তদন্ত পর্যায়ে আটকে থাকায় বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলোর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
আরও পড়ুন
- • জাপানে ৭.১ মাত্রার কম্পন, শপিংমলে আটকা বহু মানুষ
- • ফ্যামিলি কার্ডের লোভ দেখিয়ে ‘মধ্যরাতের ডাক’!
- • গোপালগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ ঘিরে রহস্য
- • ইউক্রেনের হামলার পর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- • চুক্তি না হলে ইরানের সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের
- • গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৩ হাজার
- • চার পুলিশ হত্যায় ইরানে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
- • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- • আলোচনায় বসতে ‘ব্যাকুল হয়ে উঠেছে’ ইরান: ট্রাম্প
- • ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি
- • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের
- • ইরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফর, শান্তি ও বাণিজ্যে জোর
- • পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ
- • শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়কে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি
