২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ২১:১২

শিরোনাম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট, ব্রিকস ও শুল্ক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয় শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাময়িক স্থগিতাদেশ
শিরোনাম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট, ব্রিকস ও শুল্ক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয় শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাময়িক স্থগিতাদেশ

চিঠি: হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস

চিঠি: হারিয়ে যাচ্ছে বই পড়ার অভ্যাস

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:২৯

আঙুলের ডগায় তথ্য, মননে নেই সাহিত্যের ছোঁয়া। একবিংশ শতাব্দীর এই দ্রুতগতির ডিজিটাল বিপ্লবের যুগে এসে বই পড়ার অভ্যাস দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের সমাজ এবং বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মননশীলতা ও গভীর জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক নীরব সংকটের জন্ম দিয়েছে। এক সময় বই ছিল মানুষের শ্রেষ্ঠ বন্ধু, যেখানে জ্ঞানার্জনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইব্রেরিতে কাটানো ছিল স্বাভাবিক চিত্র। কিন্তু বর্তমানে প্রতিটি হাতে হাতে স্মার্টফোন এবং সহজলভ্য ইন্টারনেট বিনোদনের অফুরন্ত ভান্ডার নিয়ে আসায়, বই হাতে নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার সেই ধৈর্য ও প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারগুলোর পাঠক সংখ্যা এবং বইমেলাগুলোতে মানসম্পন্ন সাহিত্য বিক্রির হার পর্যালোচনা করলে এই উদ্বেগজনক চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা এখন তথ্যের গভীর বিশ্লেষণের চেয়ে দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত সারাংশের ওপর বেশি নির্ভরশীল। এই অভ্যাসের পতনের মূল কারণগুলির মধ্যে অন্যতম হলো প্রযুক্তির তীব্র আগ্রাসন: সোশ্যাল মিডিয়ার তাৎক্ষণিক সন্তুষ্টি, রিলস বা স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের ক্ষণস্থায়ী বিনোদন দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোনিবেশ করার মানসিকতাকে ভেঙে দিচ্ছে, যার ফলে তরুণদের মনোযোগের স্থিতিকাল (attention span) দ্রুত কমছে। তাৎক্ষণিক পরিতুষ্টির এই সংস্কৃতি ধীর ও গভীর জ্ঞান আহরণের প্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন করছে, ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই বা গবেষণামূলক গ্রন্থ না পড়ে, পরীক্ষার আগের রাতে কেবল নোটস বা সংক্ষিপ্ত সারাংশের ওপর নির্ভর করছে, যা তথ্যের অতি-সরলীকরণ ঘটিয়ে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করে দিচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশেও বই পড়ার অনুকূলতার অভাব প্রকট: অভিভাবকরাও যখন ডিজিটাল ডিভাইসে অত্যধিক ব্যস্ত, তখন শিশুরা শৈশব থেকেই এই অভ্যাসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই সংস্কৃতি তৈরি হতে দিচ্ছে না। একই সাথে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতা ও আনন্দ নিয়ে বই পড়ার চেয়ে পরীক্ষাভিত্তিক মুখস্থবিদ্যার ওপর জোর দেওয়া হয়, ফলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কোনো বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বা আগ্রহ অনুভব করে না। এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তন কেবল ব্যক্তিগত আনন্দের ক্ষতি নয়, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী; বই পড়ার অভ্যাস হারানোর ফলে সমাজে ভাষার দৈন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking) দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং স্ক্রিন টাইম বাড়ার কারণে মানসিক অস্থিরতা ও একাগ্রতার অভাব দেখা দিচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: পরিবারে নির্দিষ্ট সময় ধরে ডিজিটাল ডিটক্সের মাধ্যমে বই পড়াকে উৎসাহিত করা, দেশের সরকারি ও বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে আধুনিক কমিউনিটি লার্নিং সেন্টারে রূপান্তরিত করা এবং শিক্ষাব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন আনা, যাতে পাঠ্যক্রমের বাইরেও সাহিত্য ও জ্ঞানমূলক গ্রন্থ পড়াকে উৎসাহিত করা হয়। এই হারানো অভ্যাসকে ফিরিয়ে আনা কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও মনন রক্ষার জন্য এক অপরিহার্য বিনিয়োগ, যা সমাজকে আরও যুক্তিনির্ভর এবং মননশীল করে তুলবে।

লেখক,
জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন 
শিক্ষার্থী বাংলা বিভাগ 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা 
 

আরও পড়ুন