১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০৮:০৪

শিরোনাম
‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা’, সমালোচনার পর মুখ খুললেন এমপি জেবা চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নন্দিনী হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হবে, আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর গম চাষে তামাকের জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা কৃষিমন্ত্রীর আড়াই বছরে জাপানে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বিকেটিটিসির চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড পিলারের নিচের মাটি নয়, সরানো হয়েছে নির্মাণকাজের অস্থায়ী রাস্তা: সড়ক ও রেলমন্ত্রী সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রবেশ বা ত্যাগের প্রথা বাতিল করলেন স্পিকার
শিরোনাম
‘সিক্সটিন হানড্রেড মাইল অফ কাঁচা রাস্তা’, সমালোচনার পর মুখ খুললেন এমপি জেবা চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক নন্দিনী হত্যা মামলার দ্রুত বিচার হবে, আশ্বাস ত্রাণমন্ত্রীর গম চাষে তামাকের জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা কৃষিমন্ত্রীর আড়াই বছরে জাপানে ৫ লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য বিকেটিটিসির চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড পিলারের নিচের মাটি নয়, সরানো হয়েছে নির্মাণকাজের অস্থায়ী রাস্তা: সড়ক ও রেলমন্ত্রী সংসদে মাথা ঝুঁকিয়ে প্রবেশ বা ত্যাগের প্রথা বাতিল করলেন স্পিকার

মামুন খালেদের ‘গোপন’ তথ্য ফাঁস করলেন মুনীর চৌধুরী

মামুন খালেদের ‘গোপন’ তথ্য ফাঁস করলেন মুনীর চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ, ২০২৬, ২৩:৩৮

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মুহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। 

শনিবার (২৮ মার্চ) নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেন তিনি।

তার দেওয়া পোস্টে মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘ফেসবুকে আমি সরব নই। আজ এক সত্য প্রকাশ না করে পারলাম না। এ যেন বিবেকের দংশন। জেনারেল মামুন খালেদ ছিলেন এক সময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সামরিক অফিসার। আমি ছিলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট)। বহু রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী এবং প্রভাবশালীদের দখল থেকে উদ্ধার করেছিলাম নদী, খাল, জলাশয়, পাহাড় ও বনভূমি। একদিকে মন্ত্রী ও প্রভাবশালীদের চাপ, আরেক দিকে করপোরেট শক্তিগুলোর হুমকি।’

পোস্টে এক রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কথা তুলে ধরেন মুনীর চৌধুরী। তিনি জানান, ঢাকা বিমানবন্দরের অদূরে প্রায় ২৫০ একর প্রাকৃতিক জলাশয় ও নিরীহ মানুষের জমি এমনকি কবরস্থান দখল করে গড়ে ওঠে একটি বিশাল আবাসন প্রকল্প। যা পুরোটাই অবৈধ। প্রশাসন, রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ সবারই নীরবতা দেখে অসহায় মানুষের কান্না ও অভিশাপে আকাশ ভারী হয়ে আসছে। অজস্র অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল রাজউক, পুলিশ, প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কোনো কাজ হয়নি।

ওই সময়কার রাজউক চেয়ারম্যানের অসহায়ত্বও তুলে ধরেন মুনীর চৌধুরী। সাহস করে অভিযানে নামেন বলেও জানান তিনি।

অভিযানে, অবৈধ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও স্থাপনা জব্দ, অকোজো করে দেন তিনি। প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলীকে করেন গ্রেপ্তার। ওই ঘটনার পর এক মন্ত্রী তাকে চাপ প্রয়োগ করেন বলে জানান।

মুনীর চৌধুরী বলেন, ‘ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদের হুমকি, চাপ ও রক্তচক্ষু। ঘটনাস্থলে তার কর্নেল স্টাফকে পাঠানো হয়। অভিযান বন্ধের নির্দেশ আসে। আমি কর্নেল স্টাফকে ফিরিয়ে দিলাম। অভিযান অব্যাহত রেখে পুরো প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে আমার নিয়ন্ত্রণে আনলাম। ক্ষতিগ্রস্ত শত শত বাসিন্দাদের বললাম, ‘কোনো ভয় নেই, আমি পাশে আছি। অবৈধ আবাসন হবে না।’ চাপ আরো ভয়ংকরভাবে এলো।’

তিনি বলেন, ‘এরপর ওই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। চাপ দিয়ে জরিমানাও আদায় করলাম। এতে জেনারেল মামুন আরো ক্ষিপ্ত হলেন। আমার মন বলছে, কিসের জেনারেল মামুন খালেদ ? কিসের ডিজিএফআইয়ের হুমকি? সর্বময় ক্ষমতা আল্লাহর। ওইদিন রাতে আরো ভয়ংকর ঘটনা। আমি পরিবেশ ভবনে রাতযাপন করতাম, ওই ভবন থেকে রাতে-দিনে সারা বাংলাদেশে অভিযানগুলো চালাতাম। আমার কোনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বলতে কিছুই ছিল না। যদিও ‘বেলা’ কিংবা পরিবেশবাদী কোনো সংগঠন সেই পরিস্থিতিতে আমার পাশে দাঁড়ায়নি।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বলেন, ‘কোথায় আজ জেনারেল মামুন খালেদ। সামরিক, বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ক্ষমতাসীমা অতিক্রম করলে তা যে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে দাঁড়ায়, এটি তার অনন্য নজির।’

পোস্টে সামরিক বাহিনীর আবাসন প্রকল্প জলসিঁড়ি বাস্তবায়নে জেনারেল মামুন খালেদের দুর্নীতির ঘটনা উদ্ঘাটন করার অনুরোধ জানান মুনীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে পেশাদারি, সততা ও যোগ্যতাকে সম্মান ও মূল্যায়ন করুন। নতুবা শাসনের সংকট থেকেই যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মের অফিসারদের আহ্বান জানাব, এসিআর অবমূল্যায়নের ভীতি, পদোন্নতি বঞ্চনার আতঙ্ক কিংবা শাস্তিমূলক বদলির আশঙ্কায় কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় নয়। পার্থিব এ পদ-পদবি ও অর্থবিত্ত এক সময় হয়ে যায় ভঙ্গুর ও শূন্য।’

এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মামুন খালেদকে আটক করে (ডিবি)। তিনি ২০০৭-০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআইয়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।


 

আরও পড়ুন