২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৯:১৪

শিরোনাম
গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট, ব্রিকস ও শুল্ক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয় শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাময়িক স্থগিতাদেশ গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজন বাধ্যতামূলক করল বিআরটিএ
শিরোনাম
গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট, ব্রিকস ও শুল্ক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয় শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাময়িক স্থগিতাদেশ গণপরিবহনে জিপিএস সংযোজন বাধ্যতামূলক করল বিআরটিএ

রোজ গার্ডেন প্যালেস: আভিজাত্য ও রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মিলনস্থল

রোজ গার্ডেন প্যালেস: আভিজাত্য ও রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মিলনস্থল

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:০৯

পুরান ঢাকার ঋষিকেশ দাস রোডে অবস্থিত রোজ গার্ডেন প্যালেস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও স্থাপত্য ইতিহাসের এক অনন্য নাম। এটি কেবল একটি বাগানবাড়ি নয়, বরং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সূত্রাপুর এলাকায় অবস্থিত রোজ গার্ডেন প্যালেস বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্মিত একটি বেসরকারি প্রাসাদ। ধ্রুপদী ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই ভবনটি তার নাম ও সৌন্দর্যের মতোই ইতিহাসের পাতায় এক উজ্জ্বল স্থান দখল করে আছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নির্মাণ

১৯৩১ সালে ধনাঢ্য হিন্দু জমিদার ঋষিকেশ দাস এই রাজকীয় প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। বলা হয়ে থাকে, তৎকালীন ঢাকার বলধা গার্ডেনের জলসায় নিমন্ত্রণ না পেয়ে জেদ করে তিনি নিজের জন্য এই বাগানবাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তিনি এখানে দেশ-বিদেশের দুর্লভ সব গোলাপের চারা রোপণ করেছিলেন, যার নামানুসারেই ভবনটির নাম রাখা হয় 'রোজ গার্ডেন'। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে এই প্রাসাদের মালিকানা পরিবর্তন হয় এবং এটি খান বাহাদুর কাজী আব্দুর রশীদের পরিবারের অধীনে চলে যায়।

স্থাপত্যের নান্দনিকতা

রোজ গার্ডেন প্যালেস মূলত ইউরোপীয় 'কোরিন্থিয়ান' স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত। এর স্থাপত্যশৈলীতে যে বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে ওঠে:
 * বিলাসবহুল কাঠামো: প্রাসাদের সামনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর এবং শ্বেতপাথরের তৈরি বেশ কিছু নারী মূর্তি, যা বাগানটিকে এক রোমান্টিক আবহ দান করেছে।
 * কারুকাজ খচিত স্তম্ভ: ভবনের সম্মুখভাগে করিন্থিয়ান স্টাইলের পিলারের ব্যবহার এবং ব্যালকনির সূক্ষ্ম নকশা মোগল ও ইউরোপীয় মিশ্র সংস্কৃতির প্রতিফলন।
 * অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ভবনের ভেতরে কাঠের মেঝে এবং কাঁচের ঝাড়বাতিগুলো আজও সেই সময়ের আভিজাত্যের সাক্ষ্য বহন করে।

রাজনীতির সূতিকাগার: আওয়ামী লীগের জন্ম

রোজ গার্ডেনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় একটি রাজনৈতিক ঘটনার কারণে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এই প্রাসাদের মাঠেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) গঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপনের ক্ষেত্রে এই স্থানটির ভূমিকা অপরিসীম।

রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও বর্তমান অবস্থা

ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই প্রাসাদটি প্রায় ৩৩১ কোটি টাকার বিনিময়ে কিনে নেয়। বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। সরকার এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানকার সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।

রোজ গার্ডেন প্যালেস কেবল একটি বাগানবাড়ি নয়; এটি ঢাকার আভিজাত্য এবং বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী। গোলাপের সুবাস হয়তো এখন আগের মতো নেই, কিন্তু এর প্রতিটি ইটে আজও মিশে আছে এক ঐতিহাসিক শৌর্য ও সংগ্রামী চেতনা।
 

আরও পড়ুন