রোজ গার্ডেন প্যালেস: আভিজাত্য ও রাজনীতির এক ঐতিহাসিক মিলনস্থল
প্রতিফলন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:০৯
পুরান ঢাকার ঋষিকেশ দাস রোডে অবস্থিত রোজ গার্ডেন প্যালেস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও স্থাপত্য ইতিহাসের এক অনন্য নাম। এটি কেবল একটি বাগানবাড়ি নয়, বরং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম সূতিকাগার। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সূত্রাপুর এলাকায় অবস্থিত রোজ গার্ডেন প্যালেস বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে নির্মিত একটি বেসরকারি প্রাসাদ। ধ্রুপদী ইউরোপীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই ভবনটি তার নাম ও সৌন্দর্যের মতোই ইতিহাসের পাতায় এক উজ্জ্বল স্থান দখল করে আছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও নির্মাণ
১৯৩১ সালে ধনাঢ্য হিন্দু জমিদার ঋষিকেশ দাস এই রাজকীয় প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। বলা হয়ে থাকে, তৎকালীন ঢাকার বলধা গার্ডেনের জলসায় নিমন্ত্রণ না পেয়ে জেদ করে তিনি নিজের জন্য এই বাগানবাড়িটি তৈরি করেছিলেন। তিনি এখানে দেশ-বিদেশের দুর্লভ সব গোলাপের চারা রোপণ করেছিলেন, যার নামানুসারেই ভবনটির নাম রাখা হয় 'রোজ গার্ডেন'। পরবর্তীতে ১৯৩৬ সালে এই প্রাসাদের মালিকানা পরিবর্তন হয় এবং এটি খান বাহাদুর কাজী আব্দুর রশীদের পরিবারের অধীনে চলে যায়।
স্থাপত্যের নান্দনিকতা
রোজ গার্ডেন প্যালেস মূলত ইউরোপীয় 'কোরিন্থিয়ান' স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত। এর স্থাপত্যশৈলীতে যে বৈশিষ্ট্যগুলো ফুটে ওঠে:
* বিলাসবহুল কাঠামো: প্রাসাদের সামনে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর এবং শ্বেতপাথরের তৈরি বেশ কিছু নারী মূর্তি, যা বাগানটিকে এক রোমান্টিক আবহ দান করেছে।
* কারুকাজ খচিত স্তম্ভ: ভবনের সম্মুখভাগে করিন্থিয়ান স্টাইলের পিলারের ব্যবহার এবং ব্যালকনির সূক্ষ্ম নকশা মোগল ও ইউরোপীয় মিশ্র সংস্কৃতির প্রতিফলন।
* অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ভবনের ভেতরে কাঠের মেঝে এবং কাঁচের ঝাড়বাতিগুলো আজও সেই সময়ের আভিজাত্যের সাক্ষ্য বহন করে।
রাজনীতির সূতিকাগার: আওয়ামী লীগের জন্ম
রোজ গার্ডেনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় একটি রাজনৈতিক ঘটনার কারণে। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন এই প্রাসাদের মাঠেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ' (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ) গঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ বপনের ক্ষেত্রে এই স্থানটির ভূমিকা অপরিসীম।
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও বর্তমান অবস্থা
ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই প্রাসাদটি প্রায় ৩৩১ কোটি টাকার বিনিময়ে কিনে নেয়। বর্তমানে এটি একটি সংরক্ষিত জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে। সরকার এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এখানকার সমৃদ্ধ ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে।
রোজ গার্ডেন প্যালেস কেবল একটি বাগানবাড়ি নয়; এটি ঢাকার আভিজাত্য এবং বাঙালির রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী। গোলাপের সুবাস হয়তো এখন আগের মতো নেই, কিন্তু এর প্রতিটি ইটে আজও মিশে আছে এক ঐতিহাসিক শৌর্য ও সংগ্রামী চেতনা।
আরও পড়ুন
- • ফোর্বসের ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকায় জায়গা পেলেন হানিয়া আমির
- • ধর্মেন্দ্রর বায়োপিকে কে? জবাব দিলেন ববি
- • মেধা হারাচ্ছে দেশ
- • মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ
- • আবারো বাড়ল দেশের রিজার্ভ
- • আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, মিলল তদন্তের প্রতিবেদন
- • কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশি
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • নতুন গানে পরীমণি
- • কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
- • লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর দফায় দফায় পাল্টা হামলা
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
