২৫ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৬:২৫

শিরোনাম
পূর্ববর্তী সরকারের ১,৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প এখন সরকারের ‘গলার কাঁটা’: অর্থমন্ত্রী এক বছরে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব ইরানের রোববার শুরু ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 'বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১' থেকে ৫ বছরে নিট মুনাফা ১৬৪ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিভাগের ঘোষণা, ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সরবরাহ জুলাইতেই মিলতে পারে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের সুখবর
শিরোনাম
পূর্ববর্তী সরকারের ১,৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প এখন সরকারের ‘গলার কাঁটা’: অর্থমন্ত্রী এক বছরে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি ঢাকা-তেহরান সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব ইরানের রোববার শুরু ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর 'বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১' থেকে ৫ বছরে নিট মুনাফা ১৬৪ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিভাগের ঘোষণা, ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে সরবরাহ জুলাইতেই মিলতে পারে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের সুখবর

এক বছরে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি

এক বছরে সেবা খাতে ঘুষ লেনদেন ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬, ১৪:৩৪

দেশের বিভিন্ন সেবা খাতে গত এক বছরে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, এই তথ্য দেশের সেবা খাতে দুর্নীতির গভীরতা ও বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের মতো এবারও পাসপোর্ট এবং বিআরটিএ খাতে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। পাসপোর্ট সেবায় ৭৬.৬ শতাংশ এবং বিআরটিএ সেবায় ৬৩.৫ শতাংশ সেবাগ্রহীতা দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, কৃষি, ভূমি এবং বিচারসংশ্লিষ্ট সেবাখাতেও দুর্নীতির হার উল্লেখযোগ্য। এসব খাতে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি।

জরিপ অনুযায়ী, ৮১.৫ শতাংশ পরিবার মনে করে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও বিচারিক সেবায় ঘুষ ও দুর্নীতির উচ্চহার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও ২০২৩ সালের তুলনায় পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে, তবুও গত বছরে পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২৪ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতির শিকার হলেও ৬১.৩ শতাংশ পরিবার কোনো অভিযোগ করেনি। কারণ হিসেবে তারা পুরো ব্যবস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে করে। এছাড়া প্রায় অর্ধেক পরিবারেরই জানা নেই কোথায় এবং কীভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করতে হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতির প্রধান কারণ হিসেবে বিচারহীনতা, সচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিবাজদের শাস্তির পরিবর্তে সুবিধা পাওয়ার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন।

টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ পরিবার ঘুষের শিকার হয়েছে, যেখানে শহরাঞ্চলে এ হার ৫৮.৫ শতাংশ। তবে ঘুষের পরিমাণের দিক থেকে শহরের পরিবারগুলোকে তুলনামূলক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের আয়ের তুলনায় বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে নারী, আদিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা চালু হলেও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব পুরোপুরি কমেনি, ফলে দুর্নীতির সুযোগ এখনো বহাল রয়েছে।

আরও পড়ুন