হাদি হত্যার বিচার কি হবে না?
প্রতিফলন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:৫২
একটি ঘড়ি থেমে গেলে শুধু সময়ই থামে না, থেমে যায় অপেক্ষাও। শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জন্য বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ঘড়িটা যেন ঠিক সেখানেই থেমে আছে, হত্যার মুহূর্তে। দিন যায়, মাস যায়, বছর গড়ায় কিন্তু প্রশ্নটা একই থেকে যায় এই থেমে থাকা কি ইচ্ছাকৃত? ইংরেজ রাষ্ট্রনায়ক উইলিয়াম ই. গ্ল্যাডস্টোন বলেছিলেন, “Justice delayed is justice denied” বিচার বিলম্বিত মানেই বিচার অস্বীকৃত। হাদি হত্যার বিচারটিও অনেকটা অস্বীকৃতির দিকে এগোচ্ছে। দিনের আলোতে জনসম্মুখে হাদিকে গুলি করা হলেও তার হত্যাকারীর বিচার এখনো না হওয়া আমাদের সরকারের পঙ্গুত্বকে প্রমান করে। আমরা এমনই এক রাষ্ট্রে বসবাস করি যেখানে সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের কোনো নিরাপত্তাই নেই। এ যেন এক চাক্ষুস প্রমান কেন অধিকাংশ বাংলাদেশির প্রধান স্বপ্ন বাংলাদেশ ত্যাগ করা।
শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক ও শিক্ষক, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। হাদি জুলাই শহিদদের অধিকার রক্ষা ও আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা আন্দোলন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী সক্রিয় রাজনীতির জন্য আলোচনায় আসেন। স্বপ্ন দেখা, প্রশ্ন করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক তরুণ হয়ে ওঠেন তিনি। ক্যাম্পাস রাজনীতির ভেতরের আধিপত্য, দখলদারিত্ব আর ক্ষমতার দ্বন্দ্বের মাঝে হাদি হয়ে উঠেছিলেন অস্বস্তিকর এক নাম। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের বলয়ে থাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দ্বারা তিনি নির্মমভাবে আক্রান্ত হন তিনি। সেই আক্রমণ ছিল পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ এবং প্রকাশ্য। একজন তরুণকে শুধু হত্যা করা হয়নি, তার ভবিষ্যৎ, তার পরিবারের স্বপ্ন, সমাজের প্রতি আস্থাও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
হাদি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও আমরা দেখেছি ক্যাম্পাসে ছাত্র হত্যা, রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রকাশ্য মারধর সবই ঘটে, কিন্তু বিচার হয় না বা হতে হতে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যায়। তদন্ত ঝুলে থাকে, চার্জশিট দুর্বল হয়, সাক্ষীরা ভয় পায়, আর আসামিরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিরাপদে থাকে। হাদির ক্ষেত্রেও সেই চেনা চিত্র, গ্রেপ্তার নিয়ে ধোঁয়াশা, মামলার গতি নিয়ে প্রশ্ন, আর বিচার প্রক্রিয়ার অস্বাভাবিক নীরবতা। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যেখানে হাদির হত্যার বিচার করা ছিল রাষ্ট্রের জন্য সর্বপ্রথম কাজ সেখানে হাদি হত্যার বিচার বাদে রাষ্ট্রের ছোট বড় সকল কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বিচারব্যবস্থা এতোটাই দুর্বল যে ওসমান হাদির আসামীর চেহারা সমগ্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হলেও তারা এই আসামীকে খুঁজে বের করতে পারছে না।
হাদি হত্যার মূল কারণ ক্ষমতার রাজনীতি। ওসমান হাদির মতো বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর চিরতরে রোধের জন্য এমন পরিকল্পনা মাফিক হত্যা করা হয়েছে। বাংলাদেশের অসুস্থ রাজনীতির মধ্যে ওসমান হাদির মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সকলের চোখের বিষ হয়ে ওঠে। এই বিষাক্ত সংস্কৃতিই এমন হত্যাকে জন্ম দেয়। হাদি বিচার না হওয়ার পেছনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ। যার প্রথমেই আসে
রাজনৈতিক প্রভাব ও চাপ। অভিযুক্তদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বলয়ের সম্পর্ক থাকায় হাদি হত্যার বিচার বিলম্বিত হচ্ছে। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সকল প্রমানাদি চোখের সামনে থাকার পরেও নিরপেক্ষ তদন্তের অভাব দেখা দিচ্ছে। ভয়ের সংস্কৃতি বিরাজমান থাকায় সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন ওঠে। বিচার ব্যবস্থার ধীরগতি মামলা দীর্ঘায়িত করার কৌশলে পরিণত হচ্ছে। সামাজিক বিস্মৃতি এর অন্যতম প্রধান কারণ। সময়ের সাথে সাথে জনচাপ কমে যাওয়ার ফলে বিচার কার্য স্থগিত রয়ে যায়।
হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হলে কেবল শোক নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দরকার। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মামলার অগ্রগতি নিয়মিত জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। সাক্ষী ও বাদীর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করতে হবে। ছাত্র রাজনীতিতে সহিংসতার শূন্য সহনশীলতা সৃষ্টি করতে হবে। নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের নিরবচ্ছিন্ন চাপ বজায় রাখতে হবে। বিচার চাওয়া কোনো অপরাধ নয় বরং বিচার না হওয়াটাই রাষ্ট্রের ব্যর্থতা। যার কারণে হাদির মতো লোক যুগে যুগে মাথা চাঁড়া দিয়ে উঠতে ভয় পায়।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার শুধু একজনের জন্য নয় এটা ভবিষ্যতের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন। যদি হাদির হত্যার বিচার না হয়, তাহলে বার্তাটা পরিষ্কার যে ক্ষমতা থাকলে খুন করেও পার পাওয়া যায়। এই বার্তা একটি রাষ্ট্রকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। আজ হাদির জন্য বিচার চাইতে না পারলে, কাল আরেকটি নাম যুক্ত হবে তালিকায়। প্রশ্নটা তাই শুধু হাদির বিচার হবে কি না তা নয়, প্রশ্নটা হলো আমরা কি নীরব থেকে এই অন্যায়কে স্বাভাবিক হতে দেব? বিচার বিলম্বিত হলে তা আর বিচার থাকে না, তা হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় উদাসীনতার দলিল।
প্রতিবেদক,
নুসরাত জাহান স্মরনীকা
আরও পড়ুন
- • ‘আলফা’ ট্রেলারে হৃত্বিক রোশনের চমক, ‘ওয়ার’ কানেকশনের ইঙ্গিত!
- • হ্যাটট্রিকের দিনেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না মেসির
- • মার্কিন অবরোধ পেরিয়ে আরব সাগরে ইরানের তিন তেলবাহী জাহাজ
- • সংসদে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ দাবি, পরে ভুল স্বীকার করলেন এমপি
- • ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু পর্তুগালের
- • মালয়েশিয়ার যাত্রা শেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
- • স্কুল দখল ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এমপির বিরুদ্ধে
- • হঠাৎ সাবস্ক্রিপশন চালু: ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চালাতে দিতে হবে টাকা,
- • অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের
- • বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার
- • মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যু
- • সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার তিন বাস টার্মিনাল সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • সৌদিতে চাকরি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন
- • বেনজীর আহমেদকে ফেরত নিতে ৩০ দিনের সময় দিল সংযুক্ত আরব আমিরাত
- • ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত
- • প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে কঠোর বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
