০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৮:২২

শিরোনাম
২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রান্তিক গ্রাহকদের বিবেচিনায় রেখে বিদ্যুৎমূল্য পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ
শিরোনাম
২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রান্তিক গ্রাহকদের বিবেচিনায় রেখে বিদ্যুৎমূল্য পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানায় বিদ্যুৎ বিভাগ হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত হলো অত্যাধুনিক ফ্লোটিং ক্রেন ‘বিএনএফসি বলীয়ান’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সাক্ষাৎ

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৩৫

রাষ্ট্রের পুনর্গঠন, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ১৮ মাসের অভিযাত্রা তুলে ধরে ‘রিফর্ম বুক’ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বইটিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া মূল সংস্কার উদ্যোগ, আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক সাফল্যের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
 
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে লাখো তরুণ-তরুণীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে, তার ধারাবাহিকতায় গভীর অর্থনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। 

দীর্ঘ বছরের দুর্নীতি, ব্যাংক খাতে বিপুল খেলাপি ঋণ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজনৈতিক প্রভাবাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রাজনৈতিক ব্যবহার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সংকোচন—এসব চ্যালেঞ্জ উত্তরাধিকার হিসেবে পায় নতুন প্রশাসন।

‘রিফর্ম বুক’ অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হয় একাধিক সংস্কার কমিশন। কমিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে এবং সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে গত ১৮ মাসে প্রায় ১৩০টি আইন (নতুন ও সংশোধনী) প্রণয়ন এবং ৬০০-এর বেশি নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৪ শতাংশ পদক্ষেপ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অর্থনীতি ও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে প্রায় ৭,৪০০ বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। চীনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার আওতায় ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থায় তথ্য বিনিময় জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাল্টা শুল্ক ৩৭ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।

পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক পুনর্গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সাবেক শাসনামলের শতাধিক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ বা জিম্মা করার তথ্য দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে তদারকি জোরদার, ৪২টি মন্ত্রণালয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথাও বইটিতে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা খাতে সংস্কারের আওতায় ১,২০০-এর বেশি কর্মকর্তাকে তদন্তাধীন অবস্থায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে পুনর্গঠন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ নামে নতুন কাঠামোয় আনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদারে সকল আদালতকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের অধীনে আনা, মেধাভিত্তিক বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রাজনৈতিক মামলার প্রত্যাহার এবং বন্ধ থাকা বিভিন্ন গণমাধ্যমকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া সাত মাসব্যাপী অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে প্রণীত ‘জুলাই চার্টার’কে সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তি দলিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। চার্টারে মৌলিক অধিকার, ক্ষমতার ভারসাম্য ও ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্র রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সরকার বলছে, ১৬ বছরের ক্ষয়ক্ষতি ১৮ মাসে পূরণ সম্ভব নয়; তবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের পথে দেশ ইতোমধ্যে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে গেছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যে সাহসিকতার স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল, সেই শক্তিকেই সামনে রেখে এগোচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে।

আরও পড়ুন