২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ২৩:৫৭

শিরোনাম
মালয়েশিয়ায় লালগালিচায় বরণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মামুনুল প্রসঙ্গের বক্তব্য মুছে দিলেন স্পিকার দেশে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ শনাক্ত ১,০৬৩ জনের মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন: বিমানমন্ত্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ, প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
শিরোনাম
মালয়েশিয়ায় লালগালিচায় বরণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মামুনুল প্রসঙ্গের বক্তব্য মুছে দিলেন স্পিকার দেশে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ শনাক্ত ১,০৬৩ জনের মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধন: বিমানমন্ত্রী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আজ, প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

‘লক্করঝক্কর’ বাসের শহরে আসছে ইলেকট্রিক বাস

‘লক্করঝক্কর’ বাসের শহরে আসছে ইলেকট্রিক বাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫

রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বায়ুদূষণ কমানো, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ঢাকায় চালু করা হবে বিদ্যুৎচালিত (ইলেকট্রিক) বাস। এ জন্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনা হবে, যা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে চলাচল করবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আধুনিক নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীতে এখনও বিপুলসংখ্যক পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল করায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন অনেকে।

পুরোনো বাস সরানোর পরিকল্পনা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীতে চলাচলকারী পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাসগুলো পর্যায়ক্রমে সরিয়ে তাদের জায়গায় ইলেকট্রিক বাস আনা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একযোগে সব বাস তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে এ কাজ করা হবে। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন বাস চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, মানুষ যখন আধুনিক ও উন্নত পরিবহনসেবা পাবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই পুরোনো যানবাহনের ব্যবহার কমে আসবে। সে লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চায় সরকার।

বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়াতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর পুরোনো বাসগুলো পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক বাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।

কী থাকছে প্রকল্পে

প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি ইলেকট্রিক বাস কেনার পাশাপাশি তিনটি চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে। পূর্বাচল, ঝিলমিল ও কাঞ্চন-কাঁচপুর এলাকায় এসব ডিপো স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র, ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস), প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগও থাকবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমবে, বায়ুর মান উন্নত হবে এবং টেকসই নগর পরিবহনব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

বিশ্বব্যাংকের ঋণে বাস্তবায়ন

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেবে ২ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। বাকি ৩৬৫ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েছে।

কেমন হবে নতুন বাস

ইলেকট্রিক বাসগুলো কোম্পানিভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত হবে। এসব বাসে স্বয়ংক্রিয় দরজা, ই-টিকিটিং ব্যবস্থা এবং আধুনিক যাত্রীসেবা থাকবে। কাউন্টারভিত্তিক পরিচালনা, নির্দিষ্ট রুট নম্বর এবং অভিন্ন রঙের বাস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।

পুরোনো বাসের নগরী

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় নিবন্ধিত প্রায় ৫৪ হাজার বাস ও মিনিবাসের মধ্যে ১৬ হাজার ১৯৮টির বয়স ২০ বছরের বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৩০ শতাংশ বাস মেয়াদোত্তীর্ণ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য আগে গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের মতামতও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হলে প্রকল্পের সফলতার সম্ভাবনা বাড়বে।

আরও পড়ুন