০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০০:৩৯

শিরোনাম
কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী
শিরোনাম
কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী

হাদি হত্যার বিচার দাবি: রণক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের ছায়া

হাদি হত্যার বিচার দাবি: রণক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের ছায়া

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০০:০৩

কখনো কখনো রাষ্ট্র নিজেই তার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভেঙে পড়ে। কারণ আয়নায় ভেসে ওঠা মুখটা আর চেনা থাকে না। আজকের ইনকিলাব মঞ্চও তেমনই এক আয়না যেখানে দেখা গেল বিচার চাওয়ার কণ্ঠকে রণক্ষেত্রে রূপান্তরের নিষ্ঠুর আয়োজন। ন্যায়বিচারের দাবিতে জড়ো হওয়া মানুষগুলো যেন হঠাৎ করেই শত্রু হয়ে উঠল রাষ্ট্রের চোখে। আর সেই শত্রু দমনের নামে শুরু হলো এমন এক দৃশ্য, যা সভ্যতার সব সীমা ছুঁয়ে গেল।

আজ ইনকিলাব মঞ্চে জড়ো হয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিক্ষার্থী, তরুণ, নাগরিক অধিকারকর্মী একটাই দাবি নিয়ে, হাদি হত্যার বিচার। কোনো অস্ত্র ছিল না, কোনো উসকানি ছিল না, ছিল শুধু ব্যানার, স্লোগান আর প্রশ্ন। কিন্তু সেই প্রশ্ন রাষ্ট্র সহ্য করতে পারল না। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। চারদিকে পুলিশের অবস্থান, ব্যারিকেড, উত্তেজনা থেকে শুরু হয় দমন। লাঠির আঘাতে ছত্রভঙ্গ হয় সমাবেশ, ধাক্কাধাক্কিতে আহত হয় একাধিক মানুষ। বিচার চাইতে আসা মানুষগুলো মুহূর্তেই অভিযুক্তে পরিণত হয়। এই রাষ্ট্রে কি তাহলে বিচার চাওয়াটাই সবচেয়ে বড় অপরাধ?

হাদি হত্যার ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অতীতেও দেখা গেছে, যখনই কোনো হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথ উত্তাল হয়েছে, তখনই সেটিকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ভাঙতে যে ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে লাঠিচার্জ, ভয় দেখানো, এলাকা ঘিরে রাখা, এসব কৌশল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নয়, বরং দমনমূলক শাসনের পরিচায়ক। এখানে প্রশ্ন আর শুধু হাদির বিচার নয়, প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নাগরিক অধিকার আদৌ আছে কি না।

এই অমানবিক পরিস্থিতির পেছনে একাধিক স্তরের কারণ কাজ করছে। দায়মুক্তির সংস্কৃতির আবির্ভাব। পুলিশি সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় বাহিনীর ভেতরে ভয় বা অনুশোচনার জায়গা তৈরি হয় না। ক্ষমতার ভয়ের কারণে বিচার চাওয়ার আন্দোলনকে সরকার প্রায়শই নিজের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখে। ফলে নাগরিক আর শত্রুর সীমারেখা মুছে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে পুলিশ বাহিনী এখনো জনবান্ধব হয়ে ওঠেনি। তারা আদেশ মানতে শেখে, মানুষের কথা শুনতে শেখে না।রাজনৈতিক ছায়ার ফলে পুলিশের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে দমন অনিবার্য হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পথ আছে, যদি রাষ্ট্র সত্যিই গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। হাদি হত্যার দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার বিলম্ব মানেই অবিচার। সমাবেশে পুলিশের আচরণ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা জরুরি। পুলিশ বাহিনীর গভীর সংস্কার প্রয়োজন। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক আচরণ ও জনসেবাভিত্তিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো সদস্য নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে না পারে। সরকারকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করতে হবে, বিচার চাওয়া রাষ্ট্রবিরোধিতা নয়।

আজ ইনকিলাব মঞ্চে যা ঘটেছে, তা কোনো আকস্মিক সংঘর্ষ নয়। এর ভেতরে আছে ভয়, দমন আর ষড়যন্ত্রের ছায়া। বিচার চাওয়ার আন্দোলনকে রণক্ষেত্রে রূপান্তর করা মানে রাষ্ট্র নিজেই তার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করছে। হাদি হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রতীক। আর সেই প্রতীককে লাঠি দিয়ে পিষে ফেললে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয় না, বরং নগ্ন হয়ে পড়ে। পুলিশ যদি সত্যিই জনগণের বাহিনী হয়, তবে তাদের আচরণে মানবিকতা থাকতে হবে। জবাবদিহি ছাড়া সংস্কার অসম্ভব, আর সংস্কার ছাড়া গণতন্ত্র কেবল শব্দমাত্র।

প্রতিবেদক,

নুসরাত জাহান স্মরনীকা

আরও পড়ুন