মানবতার আলো জ্বালিয়ে “শফী আহমদ স্মৃতি পরিষদ”-এর নীরব সংগ্রাম
কলাম লেখক
প্রকাশিত: ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১৮:৪৪
সমাজে যখন অন্যায়, অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে, তখন কিছু মানুষ নীরবে এগিয়ে আসে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তারা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও মানবতার প্রকৃত আলো ছড়িয়ে দেয় সমাজে। তেমনই একটি মানবিক সংগঠন হলো “শফী আহমদ স্মৃতি পরিষদ”, যা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার রক্ষা ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
মরহুম শফী আহমদ ছিলেন অত্যন্ত মানবিক ও উদার মনের একজন মানুষ। সমাজের গরিব, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের কষ্ট তিনি নিজের কষ্ট বলে মনে করতেন। মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখলে তিনি কখনো নীরব থাকতে পারতেন না; বরং সবসময় চেষ্টা করতেন তাদের পাশে দাঁড়াতে। তাঁর সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয় “শফী আহমদ স্মৃতি পরিষদ”—একটি সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
শফী আহমদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন উৎসর্গিত ছিল মানবসেবার জন্য। দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর আদর্শ, মানবিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা সংগঠনটির কার্যক্রমে আজও জীবন্ত হয়ে আছে। এই মানবিক চেতনা ও সহমর্মিতার পথ অনুসরণ করেই “শফী আহমদ স্মৃতি পরিষদ” সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সংগঠনটি বিভিন্ন মানবাধিকারভিত্তিক ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। শীত মৌসুমে দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, পবিত্র রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, এতিমখানা ও মাদ্রাসার সম্প্রসারণে সহযোগিতা—এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে গত ১৪ মার্চ ময়মনসিংহে সংগঠনটির উদ্যোগে একটি ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শহরের কর্মব্যস্ত জীবনে দিন কাটানো পরিশ্রমী মানুষের হাতে ইফতার পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেন সংগঠনের মানবাধিকার কর্মী ফুয়াদ, সালমান ও রাকিব।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, “শফী আহমদ স্মৃতি পরিষদ” একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। যে কোনো প্রয়োজনে অসহায় মানুষ এই সংগঠনকে তাদের পাশে পেয়েছে, যা তাদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করেছে।
মরহুম শফী আহমেদের মানবিক আদর্শকে ধারণ করে তাঁর ছোট ছেলে আলদ্বীন আহমেদ এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নেতৃত্ব ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় সংগঠনটির কার্যক্রম আজও গতিশীল রয়েছে। সমাজসেবামূলক নানা উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে হাওড়পাড় অঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।
বর্তমান সমাজে যখন মানবিক মূল্যবোধ অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ, তখন “শফী আহমদ স্মৃতি পরিষদ”-এর মতো সংগঠনগুলো আমাদের আশার আলো দেখায়। এ ধরনের উদ্যোগই প্রমাণ করে—মানবতা এখনো বেঁচে আছে, শুধু প্রয়োজন আরও বিস্তৃতি ও সম্মিলিত প্রয়াস। অতএব, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের মানবিক সংগঠনকে টিকিয়ে রাখা ও এগিয়ে নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। কারণ সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন আমরা সবাই একসঙ্গে মানবতার পক্ষে দাঁড়াতে পারব।
লেখক,
মালিয়া হক তন্দ্রা
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
আরও পড়ুন
- • নিত্যপণ্যের দামে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস
- • বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনোমিক করিডোরের প্রস্তাব দিল বেইজিং
- • ডেনমার্কে লাউডস্পিকারে আযান নিষিদ্ধের উদ্যোগ, শুরু বিতর্ক
- • নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ধনী দেশের তালিকায় যেতে পারে ইরান
- • সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে গোলাগুলি, আটক বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান
- • চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ১৭ সমঝোতা স্মারক সই
- • যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের মতো ব্যবহার করার দিন কি শেষ হচ্ছে ইসরাইলের?
- • নিউইয়র্কে একই পরিবারের ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশের নানা ধারণা
- • মালয়েশিয়ার ২ হাজার বন্দিদের ফেরানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
- • কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
- • বন্ধ কারখানাগুলোয় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- • মালয়েশিয়ার পথে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী
- • বগুড়ার ৩ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- • বগুড়ার সেই দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর
- • ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান
- • যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বৈঠকে সুইজারল্যান্ডে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
- • ১৭ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ
- • ম্যাচ উপভোগ করতে ঢাবিতে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত
