মরোণত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন মাইলস্টোন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ মার্চ, ২০২৬, ০১:৫৯
রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে আছড়ে পড়েছিল একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করেছিল চারপাশ। সেই বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন যিনি, সেই অকুতোভয় শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, সমাজসেবা ও জনসেবা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর মাহরীন চৌধুরীসহ মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
কেমন ছিলো অকুতোভয় সেই বীরত্বগাথা?
উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হওয়ার পর যখন চারদিকে আতঙ্ক আর আগুনের উত্তাপ, তখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে না ছুটে মাহেরীন চৌধুরী ছুটে গিয়েছিলেন ক্লাসরুমের দিকে। একের পর এক শিক্ষার্থীকে আগুনের মুখ থেকে বের করে আনেন তিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করতে পারলেও নিজে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। শরীরের প্রায় শতভাগ দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েও তাঁর মনে ছিল কেবল শিক্ষার্থীদের চিন্তা।
শেষ সময়ে স্বামী মনসুর হেলালকে তিনি বলেছিলেন, "ওরা আমারও সন্তান। কীভাবে ওদের ফেলে চলে আসি বলো? আমার কিছু হয়ে গেলেও ওদের তো ওই নরকে ফেলে আসতে পারি না।"
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষকতার মহান ব্রত পালন করে যাওয়া এই মহীয়সী নারী অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান।
মাহেরীন চৌধুরী কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন শিক্ষার্থীদের প্রিয় অভিভাবক। ২০০৬ সালে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজিতে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ২০০৭ সালে তিনি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁর দক্ষতা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পদোন্নতি পান।
সহকর্মী ও অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, মাহেরীন চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত সহমর্মী। গভীর রাতেও অনেক সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বা অভিভাবকদের নানা সমস্যার কথা শুনে দিকনির্দেশনা দিতেন। তিতুমীর কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স ও মানারাত থেকে স্নাতকোত্তর করা এই মেধাবী শিক্ষক দিয়াবাড়ীতে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী মনসুর হেলাল বর্তমানে প্রাইড গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।
মাইলস্টোন স্কুলের সেই ট্র্যাজেডির পর থেকেই মাহেরীন চৌধুরীর বীরত্ব দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। তাঁকে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করার দাবি জানিয়েছিলেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক সমাজ। স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬-এর তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জনমনে এক ধরনের স্বস্তি ও সন্তুষ্টি দেখা দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় এই সর্বোচ্চ স্বীকৃতি কেবল একজন শিক্ষককে সম্মান জানানো নয়, বরং এটি শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা এবং নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের এক অনন্য নজির।
আরও পড়ুন
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত
- • পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
- • মাদকসহ গ্রেপ্তার পুলিশ কনস্টেবল
- • ৫ জুলাই গৌরি-আমিরের বিয়ে, জানালেন নিজেই
- • তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার
- • গরমে ‘সুস্থতার দাওয়াই’ দিলেন মোদি, তালিকায় দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পানীয়
- • ২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ
- • ৬১ বছর বয়সী আমির খানের তৃতীয় বিয়ে
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • নতুন গানে পরীমণি
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • বুধবার বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করবে বিইআরসি
- • তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি
