অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স, সারা দেশে সমন্বিত অভিযানে জোর
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩১
সরকারের ঘোষিত অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি সম্প্রসারণে দেশব্যাপী সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, পেশাগত সংস্কার এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সারা দেশে নিয়মিত টহল, রুটিন অভিযান এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত নিয়মিত ও বিশেষ অভিযানে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২৫ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩২ হাজার ৯০৮ জন এবং বিভিন্ন মামলায় ও নিয়মিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৮৩ হাজার ৮১৭ জন।
একই সময়ে দেশব্যাপী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি, ৮৮টি ম্যাগাজিন, ৪৩টি দেশীয় বিস্ফোরক, ২ কেজি গানপাউডার, ৫০৩টি দেশীয় অস্ত্র এবং ১০ হাজারের বেশি দেশীয় ‘চকলেট বোমা’।
অভিযানে মাদকবিরোধী তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৭৬ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮ হাজার ২৮৪ প্যাকেট হেরোইন, ৩ হাজার ১৮৬ বোতল ফেনসিডিল, ৬ হাজার ৮৩৫ বোতল বিদেশি মদ, ৩৫৪ বোতল দেশীয় মদ এবং ৫ হাজার ৩৩৬ প্যাকেট গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় মাদক-সংক্রান্ত ১৪ হাজার ১৫৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২০ হাজার ৪৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
কর্তৃপক্ষের দাবি, বিশেষ অভিযান শুরুর পর থেকে অপরাধবিরোধী কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সিসিটিভি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরো অংশ এখন সিসিটিভি নজরদারির আওতায় এবং ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত এ নজরদারি ব্যবস্থা ডাকাতি, মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার কঠোর ও আইনসম্মত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি জানান, গত ১ মে থেকে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অংশ নিচ্ছে।
এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির পুলিশ সদস্যদের অপরাধ দমনে কঠোর থাকার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে মানবিক ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদও অবৈধ অস্ত্রধারী, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, মতাদর্শ বা সামাজিক পরিচয় নেই। পুলিশকে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত না করে জনগণের সেবা করতে হবে।’
তিনি আরও জানান, চলমান অপরাধ দমন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গড়ে প্রায় ৪০০ জন অপরাধ-সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করছে।
আরও পড়ুন
- • গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৩ হাজার
- • চার পুলিশ হত্যায় ইরানে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
- • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • হাতির সাথে ইজিবাইকের ধাক্কা, প্রাণ গেল ১০ মাসের শিশুর
- • নতুন নিয়মে ধাক্কা! কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য দুসংবাদ
- • বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা
- • দেশে কমছে চিনির ব্যবহার, বাড়ছে সুক্রালোজের চাহিদা
- • গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- • আলোচনায় বসতে ‘ব্যাকুল হয়ে উঠেছে’ ইরান: ট্রাম্প
- • ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি
- • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের
- • ইরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফর, শান্তি ও বাণিজ্যে জোর
- • পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ
- • শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়কে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি
