০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১৪:২৪

শিরোনাম
ডিসেম্বরে চালু হতে পারে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি পশু ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জুলাই থেকে চালু হচ্ছে হেলথ কার্ড, মিলবে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন
শিরোনাম
ডিসেম্বরে চালু হতে পারে শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল : বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি পশু ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জুলাই থেকে চালু হচ্ছে হেলথ কার্ড, মিলবে স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ সুবিধা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন

কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইমান কারাগারে

কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইমান কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২০:০৮

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। 

রবিবার (৫ এপ্রিল) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা বাদী হয়ে এ হত্যা মামলাটি করেন। এতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ ৫-৭ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি মো. ইমান উল্লাহ প্রকাশ মাস্তানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে তার ১০ দিনের রিমান্ডের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামীকাল সোমবার দিন ধার্য করা হয়। 

পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, মামলার পর রবিবার পৌনে ১টার দিকে কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে আসামি ইমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই রফিকুল ইসলাম তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা না করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের দিয়ে গোপনে কারখানা চালু করে তা পরিচালনা করেন। আসামি এই ঘটনার মূল হোতা। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটি কার্যক্রম চলমান রাখেন। এই কারণে এই মামলার ঘটনার সূত্রপাত হয়ে অনেক লোক মারা যায় ও গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা বার্ন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আবেদনে আরো বলা হয়, আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে এনে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদসহ তাকে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করলে রহস্য উদঘাটন ও তার সহযোগী এজাহারনামীয় অপরাপর পলাতক আসামিদের এবং অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং এ হত্যা মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ উদ্ধারের জন্য ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ডের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন আদালত। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ থানাধীন প্রোপাইটর মো. আকরাম উল্লাহ আকরামের মালিকানাধীন মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট বিকেল ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ছয়জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। আসামি ইমান উল্লাহসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৭ জন আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আসামি মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম ও আহনাফ আকিফ আকরাম জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮-১০ বছর আগে থেকে ৫০-৬০ জন শিশু, মহিলা, পুরুষ শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করে আসছেন।

একাধিক সময়ে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করে ফ্যাক্টরিটি বন্ধ ও সিলগালা করলেও আসামি ইমানসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫-৭ জন আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আকরাম ও আহনাফ পেশিশক্তি ব্যবহার করে পুনরায় ফ্যাক্টরির সামনের গেটে তালাবদ্ধ করে ভেতরে লুকিয়ে লুকিয়ে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটি কার্যক্রম চলমান রাখেন। যার কারণে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে শিশু শ্রম এবং শ্রমিকদের আগুনে পুড়িয়ে মৃত্যুসহ জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। আসামিরা এলাকায় পেশিশক্তির মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ দ্বারা ফ্যাক্টরিতে অবৈধ ভাবে শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ দিয়ে, শিশু শ্রমসহ সঠিক সময়ে নোটিশ প্রদানে ব্যর্থ হয় এবং শ্রমিকদের পুড়িয়ে মৃত্যু ঘটিয়ে পেনাল কোড আইনের ৩০২/৪৩৬/৩৪ ধারা তৎসহ ২০০৬ সালের শ্রম আইনের ২৮৪/২৮৫/২৯০ ধারা অপরাধ করেছেন।


 

আরও পড়ুন