বৃক্ষরোপণে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৩:১৪
মানবসভ্যতার অস্তিত্ব, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। গাছ মানুষের খাদ্য, অক্সিজেন ও আশ্রয়ের উৎস হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণ কেবল একটি সামাজিক দায়িত্বই নয়, সময়েরও দাবি।
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেও ইসলাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃক্ষ ও উদ্ভিদকে তাঁর অন্যতম নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সুরা আল-আনআমের ৯৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন; অতঃপর আমি তা দ্বারা সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।’ এই আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বৃক্ষ আল্লাহর দেওয়া এক মহামূল্যবান নিয়ামত, যার সংরক্ষণ ও পরিচর্যা মানুষের দায়িত্ব।
এ ছাড়া সুরা আর-রহমানে পৃথিবীকে মানুষের জন্য উপযোগী করে সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। সেই উপযোগিতা বজায় রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আবার সুরা আল-আরাফের ৫৬ নম্বর আয়াতে পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে নিষেধ করা হয়েছে। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও পরিবেশ ধ্বংসও এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত।
হাদিসেও বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে অথবা কোনো ফসল উৎপাদন করে, তারপর তা থেকে মানুষ, পাখি কিংবা প্রাণী আহার করে, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।’ (সহিহ বুখারি)
এই হাদিসের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ গাছটি যতদিন মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর উপকারে আসবে, ততদিন রোপণকারীর আমলনামায় সওয়াব যুক্ত হতে থাকবে।
বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়ও তোমাদের কারও হাতে একটি চারা গাছ থাকে এবং তা রোপণ করার সুযোগ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।’ এই হাদিস মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার অনন্য শিক্ষা দেয়।
ইসলামের ইতিহাসেও প্রকৃতি সংরক্ষণের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) যুদ্ধের সময়ও অপ্রয়োজনে গাছ কাটতে নিষেধ করেছেন। বর্তমান সময়ে যখন বনভূমি উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা মানবজাতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন ইসলামের এই শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
বৃক্ষরোপণকে কেবল ব্যক্তিগত আমল হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করা প্রয়োজন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসলামের দৃষ্টিতে বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়; এটি ইবাদত, মানবকল্যাণ এবং সদকায়ে জারিয়ার একটি মহৎ মাধ্যম। একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্মাণ করতে পারে আরও নিরাপদ, সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং দেশকে সবুজে সমৃদ্ধ করতে আমাদের সবারই বেশি বেশি বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসা উচিত।
আরও পড়ুন
- • হাতির সাথে ইজিবাইকের ধাক্কা, প্রাণ গেল ১০ মাসের শিশুর
- • নতুন নিয়মে ধাক্কা! কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য দুসংবাদ
- • বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা
- • দেশে কমছে চিনির ব্যবহার, বাড়ছে সুক্রালোজের চাহিদা
- • গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- • ট্রাফিক শৃঙ্খলায় নতুন উদ্যোগ, রাজধানীতে বসছে আরও ১ হাজার ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’ ক্যামেরা
- • মেলানিয়া ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, ভিডিও ঘিরে উদ্বেগ
- • হামের উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, একদিনে আক্রান্ত ৯০৪
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- • আলোচনায় বসতে ‘ব্যাকুল হয়ে উঠেছে’ ইরান: ট্রাম্প
- • ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি
- • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের
- • পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ
- • ইরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফর, শান্তি ও বাণিজ্যে জোর
- • শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়কে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি
