২৮ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ২০:১৩

শিরোনাম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট, ব্রিকস ও শুল্ক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয় শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাময়িক স্থগিতাদেশ
শিরোনাম
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭,৩৬৪ শিক্ষার্থীর, অর্ধেকের বেশি মোটরসাইকেলে :রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আগামীকাল থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট মাদকবিরোধী লড়াইকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে: মির্জা ফখরুল জ্বালানি সংকট, ব্রিকস ও শুল্ক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত নয় শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সাময়িক স্থগিতাদেশ

লালবাগ কেল্লা: ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর নিদর্শন

লালবাগ কেল্লা: ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর নিদর্শন

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৫৬

বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে দণ্ডায়মান লালবাগ কেল্লা মোগল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। এটি কেবল একটি দুর্গ নয়, বরং এটি অসম্পূর্ণতার মাঝে লুকিয়ে থাকা এক মহাকাব্য।

লালবাগ কেল্লা: মোগল আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের অমর উপাখ্যান

ঢাকার প্রাচীন জনপদ আজিমপুরে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা (পূর্বনাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ), মোগল আমলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। এটি সতেরো শতকে নির্মিত একটি দুর্গ-প্রাসাদ কমপ্লেক্স, যা আজও তার রাজকীয় গাম্ভীর্য নিয়ে পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

ঐতিহাসিক পটভূমি

১৬৭৮ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র শাহজাদা মোহাম্মদ আজম শাহ এই কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন। তিনি প্রায় এক বছর বাংলায় অবস্থান করে কেল্লার প্রধান ফটক এবং চারদিকের প্রাচীর নির্মাণের কাজ পরিচালনা করেন। তবে সম্রাট আওরঙ্গজেব তাকে দিল্লীতে তলব করায় কেল্লার কাজ অসমাপ্ত রেখেই তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খাঁ বাংলার সুবাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়ে পুনরায় কেল্লার কাজ শুরু করেন। কিন্তু ১৬৮৪ সালে তার অতি আদরের কন্যা ইরান দুখত (পরী বিবি) এই কেল্লায় মৃত্যুবরণ করলে শায়েস্তা খাঁ একে অপয়া মনে করেন এবং নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন। ফলে লালবাগ কেল্লা আজও এক বিশাল রাজকীয় অসম্পূর্ণতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থাপত্যের প্রধান আকর্ষণসমূহ

লালবাগ কেল্লা মূলত তিনটি প্রধান স্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত:

১. পরী বিবির মাজার: এটি কেল্লার কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থাপনা। রাজমহলের কালো পাথর, চুনার পাথর এবং সাদা মার্বেল পাথরের সুনিপুণ কারুকাজ এতে মোগল আভিজাত্যের ছোঁয়া দেয়। মাজারের ভেতরের কক্ষগুলোতে জ্যামিতিক নকশা এবং দামি পাথরের ব্যবহার রাজকীয় শোকের এক নীরব প্রকাশ।

২. কেল্লা মসজিদ: তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি মোগল স্থাপত্যের এক আদর্শ উদাহরণ। এর দেয়ালের প্যানেলিং এবং মেহরাবের অলংকরণ অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন।

৩. দিওয়ান-ই-আম (দরবার হল): এটি ছিল সুবাদারের প্রশাসনিক ভবন এবং বসবাসস্থল। এই ভবনের বিশেষত্ব হলো এর সাথে সংযুক্ত একটি হাম্মামখানা (গোসলখানা), যা পারস্য রীতিতে নির্মিত এবং তৎকালীন উন্নত জল সরবরাহ ব্যবস্থার প্রমাণ দেয়।

লোককথা ও টানেলের রহস্য

লালবাগ কেল্লাকে ঘিরে অনেক রোমাঞ্চকর লোককথা প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, কেল্লার ভেতরে এমন কিছু গোপন সুড়ঙ্গ বা টানেল ছিল যা সরাসরি দিল্লী কিংবা বুড়িগঙ্গার তীরের সাথে যুক্ত ছিল। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক সময় পর্যন্ত এই সুড়ঙ্গগুলো নিয়ে অনেক রহস্য ঘনীভূত হয়েছে, যা কেল্লাটিকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

ঐতিহ্যের গুরুত্ব ও পর্যটন

বর্তমানে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষিত একটি স্থাপনা। এর বিশাল চত্বর, সুন্দর বাগান এবং মোগল আমলের অস্ত্রশস্ত্র ও আসবাবপত্রের একটি সমৃদ্ধ জাদুঘর এখানে আগত দর্শনার্থীদের সেই সোনালী যুগে নিয়ে যায়।

লালবাগ কেল্লা কেবল ইট-পাথরের কোনো কাঠামো নয়; এটি বাংলার ইতিহাস, শৌর্য এবং বিয়োগান্তক স্মৃতির এক মিলনস্থল। ঢাকা শহরের ব্যস্ততার মাঝে এই কেল্লাটি আজও মোগলদের স্থাপত্য রুচি এবং শাসনকালের গৌরবময় অধ্যায়কে ধারণ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
 

আরও পড়ুন