০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৯

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

যশোর কালেক্টরেট ভবন: ঢাকা ঐতিহ্যের ৩৬০ দুয়ারী উপাখ্যান

যশোর কালেক্টরেট ভবন: ঢাকা ঐতিহ্যের ৩৬০ দুয়ারী উপাখ্যান

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৬:১৪

যশোরের গৌরব এবং উপমহাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসের অন্যতম সাক্ষী যশোর কালেক্টরেট ভবন। 

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার যশোরে অবস্থিত কালেক্টরেট ভবন কেবল একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, এটি ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনস্থল। স্থানীয়ভাবে ‘৩৬০ দুয়ারী ভবন’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

যশোরের প্রশাসনিক ইতিহাসের সূচনা হয় ১৭৮১ সালে, যখন এটি একটি জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পরবর্তীতে ১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে এখানে উপমহাদেশের প্রথম কালেক্টরেট বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান যে দৃষ্টিনন্দন ভবনটি আমরা দেখি, এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ১৮৮৫ সালে। মূলত নিচতলাটি ব্রিটিশ প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হয় এবং ১৯৮০-এর দশকে এর মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে একে দোতলায় রূপান্তর করা হয়।

স্থাপত্যশৈলীর বিশেষত্ব

এই ভবনটি তার স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলীর জন্য পর্যটক ও স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়:

 * ৩৬০ দুয়ারী ভবন: জনশ্রুতি রয়েছে যে, এই ভবনে ৩৬০টি দরজা ও জানালা রয়েছে। ব্রিটিশ আমলের ভবনগুলোতে আলো-বাতাস চলাচলের জন্য যে বিশেষ স্থাপত্যরীতি অনুসরণ করা হতো, এটি তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
 * লাল ইটের কারুকাজ: ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের আদলে নির্মিত এই ভবনের দীর্ঘ বারান্দা, খিলান এবং চুন-সুড়কির কাজ এর রাজকীয় আভিজাত্যকে ফুটিয়ে তোলে।
 * পরিপাটি চত্বর: ভবনের সামনে রয়েছে বিশাল এক খোলা প্রাঙ্গণ এবং পাশেই বয়ে গেছে ঐতিহাসিক ভৈরব নদ। এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ভবনটিকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে।

আধুনিকতার ছোঁয়া: আলোর মিছিল

ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভবনটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। আধুনিক আর্কিটেকচারাল লাইটিং বা আলোকসজ্জার মাধ্যমে রাতের বেলা ভবনটিকে এক স্বপ্নীল রূপ দেওয়া হয়। গোধূলির আলো মিলিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই বর্ণিল আলোকছটায় পুরো এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে, যা বর্তমান যশোরের অন্যতম পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

যশোর কালেক্টরেট ভবন কেবল একটি দাপ্তরিক ভবন নয়, এটি যশোরের প্রাণকেন্দ্র। ভবনের পাশের কালেক্টরেট পার্ক ও পুকুর এলাকাটি শহরের মানুষের প্রধান বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই চত্বর থেকেই জেলার সমস্ত প্রশাসনিক ও জনহিতকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা এই স্থাপনার গুরুত্বকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

যশোরের ইতিহাস মানেই যেন কালেক্টরেট ভবনের সেই দীর্ঘ বারান্দা আর লাল ইটের গাম্ভীর্য। কালের বিবর্তনে অনেক কিছু বদলে গেলেও এই ‘৩৬০ দুয়ারী ভবন’ আজও তার নিজস্ব মহিমায় সমুজ্জ্বল। এটি যেমন ইতিহাসের পাতায় যশোরের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে, তেমনি আধুনিক সময়েও জেলার ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
 

আরও পড়ুন