হঠাৎ রক্তে শর্করা কমে গেলে ঝুঁকিতে পড়ে মস্তিষ্ক, কী করবেন?
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৪৮
রক্তে শর্করার মাত্রা (ব্লাড সুগার) হঠাৎ কমে গেলে তা শুধু দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার কারণ নয়, গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, এমনকি স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় মস্তিষ্ক প্রায় সম্পূর্ণভাবে গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মস্তিষ্ক নিজে গ্লুকোজ তৈরি বা জমা রাখতে পারে না। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে গেলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে শুরু করে। এ কারণে প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সময় সাধারণত শরীর কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়। যেমন—
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া ও শরীর কাঁপা
হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া
মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা
হঠাৎ তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা
উদ্বেগ বা অস্থিরতা
বিভ্রান্তি, খিটখিটে মেজাজ বা ঝাপসা দেখা
শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের মণির অস্বাভাবিক নড়াচড়া
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
কেন হঠাৎ রক্তে শর্করা কমে যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধ, খাবার ও শারীরিক পরিশ্রমের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। এর সাধারণ কারণগুলো হলো—
ইনসুলিনের অতিরিক্ত বা ভুল মাত্রা গ্রহণ
ইনসুলিন নেওয়ার পর যথাসময়ে খাবার না খাওয়া
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা
অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম
খালি পেটে মদ্যপান
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি, লিভার বা কিডনির রোগী এবং নবজাতকদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
রক্তে শর্করা কমে গেলে কী করবেন?
রোগী সচেতন থাকলে দ্রুত তিন চা-চামচ গ্লুকোজ গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে বা ফলের রস পান করানো যেতে পারে। এরপর ১৫ মিনিট পর আবার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।
তবে রোগী অজ্ঞান হয়ে গেলে বা কিছু খেতে না পারলে মুখে জোর করে কিছু খাওয়ানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এ অবস্থায় দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে খাবার খাওয়া, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণ, দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থাকা এবং নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সময়মতো সতর্কতা ও দ্রুত ব্যবস্থা মস্তিষ্ককে গুরুতর ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন
- • গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়াল ৭৩ হাজার
- • চার পুলিশ হত্যায় ইরানে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
- • শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রথম পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- • হাতির সাথে ইজিবাইকের ধাক্কা, প্রাণ গেল ১০ মাসের শিশুর
- • নতুন নিয়মে ধাক্কা! কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য দুসংবাদ
- • বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়াদের জন্য ডিএমপির বিশেষ নির্দেশনা
- • দেশে কমছে চিনির ব্যবহার, বাড়ছে সুক্রালোজের চাহিদা
- • গ্যাস সংকট সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে মালয়েশিয়া: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
- • প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা
- • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- • আলোচনায় বসতে ‘ব্যাকুল হয়ে উঠেছে’ ইরান: ট্রাম্প
- • ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার
- • ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চান ট্রাম্প
- • ফিফা সভাপতি ইনফ্যান্তিনোর পদত্যাগ চান স্পেনের লা লিগা সভাপতি
- • ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের
- • ইরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সফর, শান্তি ও বাণিজ্যে জোর
- • পদত্যাগের পরই রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার দাবি জানান নাহিদ
- • শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়কে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেন রাষ্ট্রপতি
