০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২৩:২৫

শিরোনাম
কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী
শিরোনাম
কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বাজেটে থাকছে সর্বোচ্চ বরাদ্দ : শিক্ষামন্ত্রী

বিয়ে নিয়ে ইসলাম কি বলে ?

বিয়ে নিয়ে ইসলাম কি বলে ?

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:০৫

ইসলামে বিবাহকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি কেবল দুজন ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম নয়, বরং একটি পরিবার ও সমাজ গঠনের ভিত্তি। পবিত্র কুরআনুল কারীমে আল্লাহ সুবহানাল্লাহু ওয়া তা'আলা বলেন:

وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنۡ خَلَقَ لَكُم مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ أَزۡوَٰجًا لِّتَسۡكُنُوٓاْ إِلَيۡهَا وَجَعَلَ بَيۡنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحۡمَةًۚ
"আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।"
(সূরা আর-রূম: ২১)

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
"বিয়ে আমার সুন্নত। যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে বিরত থাকবে, সে আমার উম্মত নয়।"
(সহীহ বুখারি: ৫০৬৩)

বিয়েকে সহজ, সুন্দর ও দায়িত্বশীল করার জন্য পুরুষ ও নারীর উভয়েরই কিছু প্রস্তুতি থাকা জরুরি। 

• বিয়ের আগে যুবকদের করণীয়।

১.আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া।
বিয়ের পরে পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব পুরুষদের ওপর। তাই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানাতায়ালা বলেন:
وَلۡيَسۡتَعۡفِفِ ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغۡنِيَهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦۗ
"যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সামর্থ্যশীল করেন।"
(সূরা আন-নূর: ৩৩)

২. দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা।
বিবাহকে সফল করতে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান থাকা জরুরি। স্বামী হিসেবে নিজের দায়িত্ব এবং স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে জানা অপরিহার্য। হাদিসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْؤُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ
"তোমাদের প্রত্যেকেই একজন রক্ষক এবং তার অধীনস্থদের সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।"
(সহীহ বুখারি: ৮৯৩)

৩. চরিত্র গঠন ও আত্মসংযম।
বিয়ের আগে নিজের চরিত্র গঠন এবং নৈতিকভাবে সংযমী হওয়া যুবকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন:
إِنَّ أَكۡرَمَكُمۡ عِندَ ٱللَّهِ أَتۡقَىٰكُمۡ
"তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি, যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াধারী।"
(সূরা আল-হুজুরাত: ১৩)

• বিয়ের আগে যুবতীদের করণীয়।

১. দ্বীনি শিক্ষায় মনোযোগ দেওয়া।
যুবতীদের জন্য দ্বীনি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ভালো মা ও স্ত্রী হতে হলে দ্বীনের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
طَلَبُ ٱلۡعِلۡمِ فَرِيضَةٌ عَلَىٰ كُلِّ مُسۡلِمٍ
"জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।"
(সুনান ইবনে মাজাহ: ২২৪)

২. শিষ্টাচার ও চরিত্র গঠন।
যুবতীদের তাদের আচরণ সুন্দর করা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখা জরুরি। কেননা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা এরশাদ করেন:
وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ
"মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে।"
(সূরা আন-নূর: ৩১)

৩. পারিবারিক দক্ষতা অর্জন।
বিয়ের পরে নিজের ঘর সংসার পরিচালনার জন্য কিছু দক্ষতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়া, খাদ্য প্রস্তুত করা, এবং অতিথি আপ্যায়ন ইত্যাদি।
চতুর্থ সামাজিক সচেতনতা।
যুবতীদের বিয়ের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার। বিয়েকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত চাওয়া নয়, বরং একটি সামাজিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

• বিয়ের ভালো দিকগুলো।

১. আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি।
বিয়ে মানুষকে আত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তাআলা বলেন:
هُوَ ٱلَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفۡسٖ وَٰحِدَةٖ وَجَعَلَ مِنۡهَا زَوۡجَهَا لِيَسۡكُنَ إِلَيۡهَا
"তিনিই তোমাদেরকে একপ্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনী বানিয়েছেন, যাতে সে তার কাছে প্রশান্তি লাভ করে।"
(সূরা আল-আরাফ: ১৮৯)

২. অশ্লীলতা এবং পাপাচার থেকে মুক্তি।
বিয়ে মানুষকে যিনা ও অন্যান্য গুনাহ থেকে রক্ষা করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَنْ تَزَوَّجَ فَقَدْ أَحْرَزَ نِصْفَ دِينِهِ، فَلْيَتَّقِ اللَّهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِي
"যে ব্যক্তি বিয়ে করে, সে তার দ্বীনের অর্ধেক সম্পন্ন করে। বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।"
(তাবরানি: ৭৫৭১)

৩. পরিবার গঠন ও সমাজে ভারসাম্য।
বিয়ে পরিবার গঠন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি শুধু দুজন ব্যক্তির মধ্যে একটি সম্পর্ক নয়, বরং একটি নতুন পরিবারের সূচনা। পরিবারই সমাজের মূল ভিত্তি। যখন একটি পরিবার সুসংহত হয়, তখন সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

• বিবাহের সমস্যা সমাধানের উপায়।

১. সহজ শর্তে বিয়ে করা।
বিয়েকে জটিল না করে সহজ করতে হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
إِنَّ أَعۡظَمَ ٱلنِّكَاحِ بَرَكَةً أَيۡسَرُهُ كَلَفَةً
"সেই বিয়েতে সবচেয়ে বেশি বরকত রয়েছে, যা সবচেয়ে সহজ শর্তে সম্পন্ন হয়।"
(মুসনাদ আহমদ: ২৪৫৫৯)

২. ধৈর্য ও বোঝাপড়া।
দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি শুধু একটি সুখী সংসারের ভিত্তিই নয়, বরং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রধান উপাদান। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বোঝাপড়া ভালো হলে যে কোনো সমস্যার সমাধান সহজ হয়ে যায়, এবং সম্পর্ক আরও গভীর ও মধুর হয়।

৩. ইসলামি শিক্ষার চর্চা।
দাম্পত্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষার চর্চা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে একটি পবিত্র বন্ধন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান, এবং দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ককে সুসংহত এবং বরকতময় করতে হলে ইসলামি নির্দেশনা মেনে চলা অপরিহার্য।

আরও পড়ুন