০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০১:৪০

শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার
শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার

৮০০ টাকা চুরির অপবাদে শিশুর মুখে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা

৮০০ টাকা চুরির অপবাদে শিশুর মুখে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬, ২০:৩৫

লক্ষ্মীপুরে ৮০০ টাকা চুরির অভিযোগে দুই শিশুর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক মুদি দোকানির বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে এক শিশুর মুখে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে লক্ষ্মীপুর শহরের দক্ষিণ মার্কাস মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিশু হলো— লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার আবদুস সহিদের ছেলে মুজাহিদ হোসেন (৯) এবং ভবানীগঞ্জের চরউভূতি এলাকার জিয়াউল হকের ছেলে জিহান হোসেন (১২)। মুজাহিদ স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র এবং জিহান মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শহরের মার্কাস মসজিদ এলাকায় মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান আছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার দোকান থেকে ৮০০ টাকা চুরি হয়। টাকা চুরির সন্দেহে মুজাহিদ ও জিহানকে ধরেন মনির ও তার সহযোগীরা। এর পর শুরু হয় নির্যাতন। ‘চোর ধরা পড়েছে’ বলে প্রচারণা চালিয়ে সবার সামনে দুই শিশুর হাত বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জিহানের মুখে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাঁকা দেন অভিযুক্ত মনির।

নির্যাতিত শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনের পর তাদের খবর দেওয়া হয়। শিশুদের ছাড়িয়ে নিতে চাইলে মনির হোসেন জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে আহত অবস্থায় শিশুদের উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 


স্বজনদের দাবি, শিশুরা চুরির সঙ্গে জড়িত নয়; কেবল সন্দেহের বশবর্তী হয়ে তাদের ওপর এই বর্বরতা চালানো হয়েছে। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

তবে, দোকানি মনির হোসেন নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “আমার ক্যাশ থেকে ওরা ৮০০ টাকা চুরি করেছে এবং সেটা স্বীকারও করেছে। আমি শুধু একটা থাপ্পড় দিয়েছি, হাত বেঁধে মারধর বা সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না।”

চিকিৎসাধীন শিশুদের বিষয়ে সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “দুই শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। বিশেষ করে, এক শিশুর মুখে সিগারেটের ছ্যাঁকার স্পষ্ট ক্ষত দেখা গেছে। তাদের যথাযথ চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কেউ অপরাধ করলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। শিশুদের ওপর নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের ওপর এমন নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন