০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ০৩:০০

শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার
শিরোনাম
পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান কৃষিকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের পুরোনো দাম বহাল বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি তিন জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার

রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা

রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা

মোছাঃ মায়া আক্তার

প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬, ০১:২৭

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও স্বল্পব্যয়ের যোগাযোগমাধ্যম রেলপথ দিন দিন যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাতের ট্রেনযাত্রায় ছিনতাই, চুরি ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা জোরদারের নানা আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে যাত্রীরা নিজেদের নিরাপত্তাহীন ও অসহায় মনে করছেন। চলন্ত ট্রেনে সাম্প্রতিক ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে, রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।

গত ২১ মে ২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। তারা উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন। এ সময় চলন্ত ট্রেনে ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী রাফিয়া পারভিন কণার হাতে থাকা ব্যাগটি ট্রেনের জানালার পাশ থেকে এক ছিনতাইকারী টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী নিজের ব্যাগ রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালালে দুর্বৃত্ত তাকে আঘাত করে এবং একপর্যায়ে ব্যাগটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ব্যাগটিতে আনুমানিক ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন, সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা নগদ অর্থ এবং কিছু প্রয়োজনীয় প্রসাধনী সামগ্রী ছিল।

ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, পুরো সময়জুড়ে রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর কোনো কার্যকর উপস্থিতি বা সহযোগিতা দেখা যায়নি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার পর দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে শুধু সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়; কিন্তু ছিনতাইকারীকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বেড়েছে।

বর্তমানে রাতের ট্রেনে জানালার পাশে বসা, মোবাইল ফোন ব্যবহার কিংবা ব্যাগ হাতে রাখা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রুটে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান বা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থা খুব কমই চোখে পড়ে। ফলে সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে ঈদ কিংবা অন্যান্য বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু প্রতিবারই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নামমাত্র পদক্ষেপ।

রেলপথকে নিরাপদ করতে হলে শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। প্রতিটি ট্রেনে পর্যাপ্ত রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রীদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ ও কার্যকর তদন্তের ব্যবস্থাও জরুরি।

রেলপথ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রার প্রতীক হওয়ার কথা। কিন্তু যদি সেই যাত্রাই আতঙ্ক ও প্রাণসংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা শুধু যাত্রীদের জন্য নয়, পুরো পরিবহন ব্যবস্থার জন্যই একটি অশনিসংকেত।

লেখক,

মোছাঃ মায়া আক্তার

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন