০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৩

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

ন্যাট্রন হ্রদ: যার লাল পানিতে নামলে পশু-পাখি পাথর হয়ে যায়

ন্যাট্রন হ্রদ: যার লাল পানিতে নামলে পশু-পাখি পাথর হয়ে যায়

প্রতিফলন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭:৩৫

আফ্রিকার তানজানিয়ায় অবস্থিত ন্যাট্রন হ্রদ প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও রহস্যময় সৃষ্টি। এর চোখধাঁধানো সৌন্দর্য যেমন পর্যটকদের টানে, তেমনি এর প্রাণঘাতী বৈশিষ্ট্য একে করে তুলেছে অনন্য। পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান উপাদান হলো পানি। আমাদের গ্রহের প্রায় ৭০ শতাংশ জুড়ে থাকা এই উপাদানের রয়েছে বিচিত্র রূপ। তবে তানজানিয়ার ন্যাট্রন লেক বা ন্যাট্রন হ্রদ যেন সব বৈচিত্র্যকে ছাপিয়ে গেছে। এই হ্রদের লাল পানি যেকোনো প্রাণীকে ‘জীবন্ত মমি’তে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে।

রহস্যময় ও পবিত্র জলাশয়ের প্রেক্ষাপট

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনেক জলাশয়কে পবিত্র জ্ঞান করা হয়। যেমন:

 * সনাতন ধর্ম: গঙ্গা, যমুনা, নর্মদা নদী এবং মানসসরোবর ও বিন্দু সরোবর।
 * আব্রাহামিক ধর্ম: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছে পবিত্র জর্ডান নদী।
 * লোককথা: কলম্বিয়ার লেক গুয়াটাভিতা, যেখানে ‘এল ডোরাডো’ নামক স্বর্ণশহরের কিংবদন্তি প্রচলিত।
এই সব আধ্যাত্মিক ও শান্ত হ্রদগুলোর বিপরীতে দাঁড়িয়ে আছে তানজানিয়ার ঘাতক ন্যাট্রন লেক। এর অদ্ভুত লাল রঙ হাজার হাজার ফুট ওপর থেকেও স্পষ্ট দেখা যায়।

হ্রদের সৃষ্টি ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য

প্রায় ১৫ লক্ষ বছর আগে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূ-টেকটোনিক পরিবর্তনের ফলে এই জলাশয়টি সৃষ্টি হয়। এর ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত ‘ওল ডোইনিও লেঙ্গাই’ বা ‘ঈশ্বরের পাহাড়’।

 * খনিজ উপাদান: আগ্নেয়গিরির প্রভাবে এই হ্রদে ক্যালসিয়াম বাইকার্বোনেট ও সোডিয়াম কার্বোনেটের মাত্রা অত্যন্ত বেশি।
 * টার্মিনাল লেক: এই হ্রদটি কোনো নদী বা সাগরে গিয়ে মেশে না। গ্রীষ্মকালে এর তাপমাত্রা ৪১° সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
 * পিএইচ (pH) মাত্রা: হ্রদের পানির পিএইচ মান প্রায় ১০.৫, যা অত্যন্ত ক্ষারীয় এবং সাধারণ প্রাণীদের জন্য অসহনীয়।

যেভাবে প্রাণীরা ‘পাথরে’ পরিণত হয়

২০১৩ সালে ফটোগ্রাফার নিক ব্র্যান্ডট তাঁর ‘অ্যাক্রস দ্যা রেভেজড ল্যান্ড’ বইয়ে এই হ্রদের তীরের কিছু হাড়হিম করা ছবি প্রকাশ করেন। তিনি দেখেন, হ্রদের তীরে মরে পড়ে থাকা পাখি ও বাদুড়গুলো দেখতে অবিকল পাথরের মূর্তির মতো।

বিজ্ঞান যা বলে: 

হ্রদের পানিতে থাকা উচ্চমাত্রার সোডিয়াম কার্বোনেট ও লবণ মৃত প্রাণীদের দেহ থেকে চর্বি ও আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়। এটি অনেকটা প্রাচীন মিশরের মমি তৈরির প্রক্রিয়ার মতো কাজ করে। ফলে দেহগুলো পচে না গিয়ে শক্ত হয়ে ‘প্রাকৃতিক মমি’তে পরিণত হয়। হ্রদের সংস্পর্শে আসা প্রাণীদের চোখ ও চামড়া পুড়ে যায় এবং তারা পানিশূন্য হয়ে মারা পড়ে।

মৃত্যুর হ্রদে প্রাণের স্পন্দন

প্রাণঘাতী হওয়া সত্ত্বেও এই হ্রদটি একেবারে প্রাণহীন নয়। বরং এটি প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর অথচ সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করে।

 * লাল রঙের রহস্য: লবণপ্রিয় অণুজীব (হ্যালোআর্কিয়া) এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারণে হ্রদের পানি গাঢ় লাল রঙ ধারণ করে।
 * ফ্লেমিংগোর স্বর্গরাজ্য: এই বিষাক্ত শৈবালই হলো লেসার ফ্লেমিংগো পাখিদের প্রধান খাদ্য। তাদের পায়ের শক্ত আবরণ ও পালক এই ক্ষারীয় পানি থেকে সুরক্ষা দেয়।
 * প্রজনন কেন্দ্র: হ্রদটি অন্য প্রাণীদের জন্য বিপজ্জনক হওয়ায় ফ্লেমিংগোদের এখানে কোনো শিকারির ভয় নেই। পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ ফ্লেমিংগোর জন্ম হয় এই হ্রদের তীরেই।

প্রজনন মৌসুমে যখন লক্ষ লক্ষ গোলাপি ফ্লেমিংগো এই লাল হ্রদে নেমে আসে, তখন তৈরি হয় এক অপার্থিব দৃশ্যের। প্রকৃতি এভাবেই ন্যাট্রন হ্রদকে একইসাথে মৃত্যু ও জীবনের এক অদ্ভুত মিলনস্থলে পরিণত করেছে।

আরও পড়ুন