ভিআইপিদের দেহরক্ষী আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরাই
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৪
ভিআইপিদের দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের একটি বড় অংশের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেহরক্ষীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথের আগে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত ছিল—বিগত সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা কাউকে দেহরক্ষী হিসেবে রাখা হবে না। তবে পরে বিভিন্ন তদবির, সুপারিশ এবং কিছু ক্ষেত্রে উৎকোচের অভিযোগের মধ্য দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করা হয়।
পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান সরদার নুরুল আমিন বলেন, দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর কয়েকজনকে পরিবর্তন করা হয়েছে। অন্যদের বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও পরিবর্তন আনা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ভিআইপিদের নিরাপত্তায় এ পর্যন্ত ১১১ জন পুলিশ সদস্যকে গানম্যান বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের একটি বড় অংশই আগের সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত এবং সে সময় মন্ত্রীদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—অভিযোগ ওঠা দেহরক্ষীদের মধ্যে অনেকেই ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন অথবা আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠদের সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছিলেন। ফলে বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাঁদের নিয়োগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, শপথের আগেই এসবি থেকে দেহরক্ষীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে প্রভাবশালী মহলের তদবিরে সেই তালিকায় পরিবর্তন আসে। এতে বিতর্কিত অনেকেই দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন দায়িত্বে রাখা হলে রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর তথ্যের গোপনীয়তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এ ধরনের বিষয়ে অবহেলার সুযোগ নেই। পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা যায়।
এ বিষয়ে সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেহরক্ষী নিয়োগে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।
আরও পড়ুন
- • পশ্চিমবঙ্গে চরম সংকটে তৃণমূল, কমিটি ভেঙে দিলেন মমতা
- • বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি দল ফ্রান্স, শীর্ষে ইয়ামাল
- • জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত পাঁচ দেশ
- • সিসিটিভিতে ধরা পড়ল কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন আঘাতের মুহূর্ত
- • আবারও যুদ্ধবিরতিতে সম্মত লেবানন-ইসরায়েল
- • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরলেন ড. খলিলুর রহমান
- • রামিসা হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, আজ চূড়ান্ত শুনানি
- • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলল মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • নতুন গানে পরীমণি
- • কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
- • লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর দফায় দফায় পাল্টা হামলা
- • দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
