যেসব লক্ষণ হিটস্ট্রোকের ইঙ্গিত দেয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুন, ২০২৬, ০২:০৩
তীব্র গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকে মনে করেন, তাপমাত্রা যখন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, কেবল তখনই হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, মাত্র ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোক হতে পার। বিশেষ করে যদি শরীরে পানিশূন্যতা থাকে, আর্দ্রতা বেশি থাকে কিংবা বদ্ধ পরিবেশে শারীরিক পরিশ্রম করা হয়, তবে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
হিটস্ট্রোক হঠাৎ করে হয় না এর আগে শরীর কিছু বিশেষ সংকেত দেয়। অনেক সময় আমরা সেগুলোকে সাধারণ গরমের অস্বস্তি ভেবে ভুল করি। চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীর খারাপ হওয়ার আগে কী কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং প্রতিকারের উপায়।
১. শরীর যেসব প্রাথমিক সংকেত দেয়
এশিয়ান হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. প্রাণজিৎ ভৌমিকের মতে, শরীর বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছানোর আগে কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়। এগুলো হলো:
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অবসাদ।
মাথা ঘোরা বা হালকা বোধ হওয়া।
মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাব।
মাংসপেশিতে টান লাগা বা ক্র্যাম্প।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে আসছে।
২. কেন ঘটে এমনটা?
বাতাস চলাচলের অভাব বা ‘পুওর ভেন্টিলেশন’ হিটস্ট্রোকের অন্যতম কারণ। বাতাস চলাচল না করলে শরীর থেকে ঘাম ঠিকমতো বাষ্পীভূত হতে পারে না, ফলে শরীরের শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর সঙ্গে সরাসরি রোদ, আর্দ্রতা এবং দীর্ঘক্ষণ শারীরিক পরিশ্রম যুক্ত হলে সাধারণ তাপমাত্রাতেও শরীর ভেঙে পড়তে পারে।
৩. গরমে সাধারণ কিছু ভুল
আমরা অনেক সময় না জেনেই কিছু ভুল করি যা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়:
পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান না করা।
অতিরিক্ত টাইট বা গাঢ় রঙের পোশাক পরা।
বাইরে বের হওয়ার সময় মাথা না ঢাকা।
দুপুরের কড়া রোদে বিরতিহীনভাবে কাজ করা।
এসি-তে থাকলে পানি পানের কথা ভুলে যাওয়া।
মনে রাখবেন, ঘরের ভেতরে থাকলেও শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়, তাই হাইড্রেশন বজায় রাখা জরুরি।
৪. ঘরোয়া পানীয়র গুরুত্ব
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে শুধু সাধারণ পানি পান যথেষ্ট নয়। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে লবণ ও ইলেকট্রোলাইট বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে লেবুর শরবত, ঘোল বা ছাঁচ (buttermilk) এবং কাঁচা আমের পান্না (aam panna) অত্যন্ত কার্যকর। এই পানীয়গুলো শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে।
প্রতিরোধে চিকিৎসকদের পরামর্শ:
হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন।
বাইরে যাওয়ার সময় ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন।
কাজের মাঝে নিয়মিত বিরতি নিন এবং ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করুন।
বদ্ধ ঘরে না থেকে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা আছে এমন স্থানে থাকার চেষ্টা করুন।
শরীরের সংকেতগুলো চিনতে পারা এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই পারে আপনাকে এই মারাত্মক বিপদ থেকে রক্ষা করতে। সামান্য অসুস্থ বোধ করলেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিন এবং প্রচুর পানি ও তরল পান করুন।
আরও পড়ুন
- • যেসব লক্ষণ হিটস্ট্রোকের ইঙ্গিত দেয়
- • নৈতিকতার চরম অবনতি দায় আসলে কার?
- • বাকস্বাধীনতা কোথায়?
- • রেলপথে নিরাপত্তাহীনতায় বাড়ছে ছিনতাই, প্রাণ সংশয়ে যাত্রীরা
- • আফগানিস্তানের বিপক্ষেও অপরাজিত বাংলাদেশ
- • দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ নিহত ২২
- • পদোন্নতিতে বৈষম্যের অভিযোগে অবসরে যাচ্ছেন সিআইডি প্রধান
- • বজ্রপাতে দেশে ১২ জনের মৃত্যু
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • নতুন গানে পরীমণি
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • বুধবার বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করবে বিইআরসি
- • তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি
