০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫২

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ

মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ

ফারিহা জামান নাবিলা

প্রকাশিত: ০৪ জুন, ২০২৬, ০১:৩৩

যুবসমাজ একটি জাতির ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল শক্তি। কিন্তু এই শক্তির একটি অংশ আজ মাদকের অন্ধকার জালে আটকে পড়ছে। যুবসমাজ যেন একটি তরতাজা গাছের চারা, যা একদিন বড় হয়ে দেশ ও সমাজকে ছায়া দেবে। কিন্তু সেই চারাগাছ যদি শুরুতেই রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। ঠিক তেমনি মাদকও যুবসমাজের জীবনকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।মাদক শুধু একজন মানুষের ক্ষতি করে না এটি একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যুবসমাজকে এই অন্ধকার পথ থেকে দূরে রাখা এবং তাদের সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি আমাদের সমাজের অন্যতম বড় সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে এর বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় মাদকাসক্তি সীমিত কিছু মানুষের মধ্যে দেখা গেলেও এখন এটি শহর থেকে গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে।তরুণরা একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান শক্তি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক তরুণ বিভিন্ন কারণে মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। এর ফলে তাদের শিক্ষা, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণ মাদকের কারণে তাদের লক্ষ্য ও স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

প্রতিদিন সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার খবর প্রকাশিত হচ্ছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে, আবার কেউ কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন পুনর্বাসন কেন্দ্রে তরুণদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াও এই সমস্যার গভীরতা নির্দেশ করে। অনেক পরিবার তাদের সন্তানকে মাদকের কারণে হারাচ্ছে বা চরম সংকটের মধ্যে পড়ছে।

যুবসমাজের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করে। বেকারত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক তরুণকে হতাশ করে তোলে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলে তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভুল পথে পা বাড়াতে পারে। খারাপ সঙ্গ ও বন্ধুদের প্রভাব মাদকাসক্তির একটি বড় কারণ। অনেক তরুণ কৌতূহলবশত বা বন্ধুদের চাপে প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে যা পরে অভ্যাসে পরিণত হয়। পারিবারিক অশান্তি, অবহেলা ও মানসিক চাপ তরুণদের মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। পরিবারে ভালোবাসা, বোঝাপড়া ও মানসিক সমর্থনের অভাব থাকলে তারা বাইরের জগতে ভুল আশ্রয় খুঁজতে শুরু করে।এছাড়া সামাজিক সচেতনতার অভাব, মাদকের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কিছু নেতিবাচক প্রভাব তরুণদের মাদকের প্রতি আকৃষ্ট করে। অনেকেই সাময়িক আনন্দ বা দুশ্চিন্তা ভুলে থাকার আশায় মাদক গ্রহণ করে কিন্তু পরে তা তাদের জীবনের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।

যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যাতে তারা নিজেদের সমস্যা ও অনুভূতির কথা খোলামেলাভাবে বলতে পারে। পরিবারের ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন একজন তরুণকে ভুল পথ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তরুণদের মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানাতে হবে এবং সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে হবে। যুবকদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। এতে তারা ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত থাকবে এবং মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমবে। মাদক বিক্রি ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। সমাজে মাদকের সহজলভ্যতা কমাতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নৈতিক মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে হবে। সবাই সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে যুবসমাজকে মাদকের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

যুবসমাজের মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তির সমস্যা নয় এটি পুরো সমাজ ও দেশের জন্য একটি বড় হুমকি। আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে তাই তাদের সুরক্ষিত ও সচেতন রাখা অত্যন্ত জরুরি। মাদকের কারণে একজন তরুণের স্বপ্ন, মেধা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়, যা পরিবার ও সমাজের জন্যও ক্ষতিকর।
তাই মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা, ভালোবাসা ও মানসিক সমর্থন দিতে পারলে তারা সহজেই এই ভয়াবহ পথ থেকে দূরে থাকতে পারবে। একটি মাদকমুক্ত যুবসমাজই পারে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে।

লেখক,
ফারিহা জামান নাবিলা 
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা 
ইমেইল :farihazaman524@gmail 

আরও পড়ুন