০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫২

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

যৌতুকের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়?

যৌতুকের পশু দিয়ে কোরবানি করা যায়?

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

প্রকাশিত: ১৯ মে, ২০২৬, ০১:২৯

আমাদের সমাজে একটি প্রথা প্রচলিত আছে, তা হলো, পবিত্র ঈজুল আজহার সময় মেয়ের বাড়িতে কোরবানির পশু পাঠাতে হয়। বিশেষ নববিবাহিত মেয়ের বাড়িতে কোরবানির পশু ও ঈদ উপহার পাঠানো বাধ্যতামূলক মনে করা হয়। ঈদে এলে কার শশুর বাড়ি থেকে কত বড় কোরবানির পশু এলো, তা নিয়ে এলাকা সরগরম থাকে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই বরপক্ষের লোকদের মনে আশা জন্মায় যে, আমাদের ছেলের শশুর বাড়ি থেকে এমন কিছু আসুক, যা এলাকায় আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। মেয়ের পক্ষের লোকদের মাথায় থাকে, মেয়ের জামাইকে ঈদে বড় কোরবানির পশু না দিতে পারলে মান-সম্মান থাকবে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রেতো মেয়ে অত্যাচারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। কেউ সন্তুষ্ট চিত্তে কোনো রকম চাপ ছাড়া তার মেয়েকে কোরবানির পশু উপহার দিলেও তা অনেকের বিপদের কারণ হতে পারে। সব মিলিয়ে যৌতুকের পশু দিয়ে কোরবানি করার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দেয়। নিম্নে এরকম কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো, যেগুলোর কারণে যৌতুকের পশুতে কোরবানি বিপদজনক হতে পারে। 

যৌতুক হওয়ার কারণে : এ উপহার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যৌতুকের পর্যায়ে পড়ে। খুব কম মানুষই কোনো ধরনের চাপে না পড়ে, সন্তুষ্টচিত্তে এসব উপহার দেয় না কিংবা যা দিচ্ছে, তা দেওয়ার সামর্থ রাখে। যৌতুক মূলত চাপ সৃষ্টি করে অন্যের সম্পদ নেওয়া। ইসলামে এটি জুলুম ও অন্যায় ভাবে সম্পদ ভোগের অন্তর্ভুক্ত, যা ইসলামে হারাম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা অন্যায় ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না। এবং তা বিচারকদেরকে (ঘুষ হিসেবে) প্রদান করো না। যাতে মানুষের সম্পদের কোনো অংশ পাপের মাধ্যমে জেনে বুঝে খেয়ে ফেলতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৮)

বোঝা গেল, অন্যায় ভাবে অর্জিত সম্পদ ভক্ষণ মুমিনের জন্য হালাল নয়। আর আল্লাহ হালাল ও উত্কৃষ্ট বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। হাদিসে আছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র; তিনি শুধু পবিত্র (হালাল) জিনিস ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)

অতএব, জবরদস্তি বা সামাজিক চাপে আদায় করা সম্পদ দিয়ে কোরবানি করলে তা কবুল হবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা থেকে যায়।

ইবাদত সামাজিক প্রদর্শনীতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা : সাধারণত যৌতুকের পশু ‘মান-সম্মানের’ প্রতীক হয়ে যায়। তখন শয়তান মানুষকে ধোঁকায় ফেলা সহজ হয়। কোরবানির মহত্ উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি হলেও শয়তান মানুষের অন্তরে প্রশংসা ও বাহবা প্রাপ্তীর বাসনা তৈরি করে, এটাও কোরবানির মহিমা ক্ষুণ্ন করার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করে। কারণ কোরবানিতে আল্লাহর একনিষ্ঠতা ও তাকওয়াই মুখ্য। ভিন্ন নিয়ত, প্রদর্শনী এর মাহাত্ম্য নষ্ট করে দেয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে না পৌঁছে এগুলোর গোশত, না পৌঁছে রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৩৭)

যখন কোরবানির পশু ‘কার শশুর বাড়ি থেকে কত বড় পশু এলো’— এ প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন ইখলাস নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে।

অহংকার ও গর্ব সৃষ্টি হওয়া : সাধারণত যৌতুকের পশু নিয়ে পরিবার বা ব্যক্তি যদি গর্ববোধ করে, ‘আমাদের অমুকের শশুর বাড়ি থেকে এত বড় পশু পাঠানো হয়েছে’, ‘আমরা অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারে আত্মীয়তা করেছি, প্রতিবেশীরা তুচ্ছ’ এগুলোও নিয়তকে কলুসিত করে। আর পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভীক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা লোকমান, আয়াত : ১৮) 

সামাজিক কুপ্রথাকে শক্তিশালী করা : যৌতুকের পশু গ্রহণ করলে সমাজে এ ধারণা শক্ত হয় যে বিয়েতে মেয়েপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা স্বাভাবিক বা এসব রেওয়াজ পালন করা বাধ্যতামূলক। ফলে এটি জুলুমে সহযোগিতার শামিল হয়ে যেতে পারে। অথচ ইসলাম জুলুমে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘মন্দকর্ম ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ২)

অতএব, যৌতুকের পশু গ্রহণ ও তা দিয়ে কোরবানি করা অনেক সময় একটি সামাজিক কুপ্রথাকে স্বাভাবিক করে দিতে পারে।

তাই যারা বরপক্ষের লোক, তাদের উচিত, কনেপক্ষকে আগে থেকেই বিনয়ের সাথে এসব কুপ্রথা চর্চা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা। প্রত্যেকের উচিত, সামাজিক ভাবে সচেতনা তৈরি করা। কেউ শতভাগ সন্তুষ্টিচিত্তে উপহার দিলে তা নেওয়া অবশ্যই জায়েজ ও হালাল। কিন্তু শয়তান যেহেতু মানুষের ইবাদত বিনষ্টে তত্পর থাকে, তাই এসব কুপ্রথা পালন না করাই উত্তম।

আরও পড়ুন