০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৪

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

কোরবানির ঈদের দিন হাঁস মুরগি জবাই নিয়ে বিভ্রান্তি!

কোরবানির ঈদের দিন হাঁস মুরগি জবাই নিয়ে বিভ্রান্তি!

ধর্ম ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬, ০১:৫১

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে এলেই মুসলিম সমাজে কোরবানিকে ঘিরে এক স্বর্গীয় ধর্মীয় আবহ, উৎসবের আমেজ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় মাসআলা নিয়ে নানা ধরণের চুলচেরা আলোচনা তৈরি হয়। এই ত্যাগের উৎসবে কোরবানির নির্দিষ্ট পশু কেনা, তা নিয়ম মেনে জবাই করা এবং গোশত সুষম বণ্টনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে বিভিন্ন ধর্মীয় নিয়ম-কানুন নিয়ে অনেক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়; বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বা সাধারণ মুসলিমদের মধ্যে একটি ভুল ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে যে, কোরবানির এই বিশেষ দিনগুলোতে নাকি বাড়িতে হাঁস-মুরগি বা অন্য কোনো ছোট গৃহপালিত পাখি ও প্রাণী জবাই করা ধর্মীয়ভাবে সম্পূর্ণ নিষেধ। সমাজের কেউ কেউ আবার মনে করেন, ঈদের এই দিনগুলোতে শুধু গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া বা উটের মতো ইসলাম স্বীকৃত কোরবানিযোগ্য পশুই কেবল জবাই করা বৈধ এবং অন্য কোনো হালাল পাখি বা প্রাণী জবাই করা মোটেও ঠিক নয়।

এর ফলে অনেক সাধারণ মানুষ কোরবানির দিনগুলোতে নিজেদের পারিবারিক রান্না বা দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি আপ্যায়নের অতি প্রয়োজনেও ঘরের হাঁস-মুরগি জবাই করতে গিয়ে চরম মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান যে, এমনটি করলে তাঁদের কোনো ধর্মীয় পাপ বা গোনাহ হবে কি না, অথবা তা কোরবানির পবিত্র আদবের পরিপন্থী হবে কি না; সামাজিকভাবে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এমন অমূলক ধারণা ও বিভ্রান্তি দূর করার স্বার্থে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ইসলামি শরিয়তের নিখুঁত ব্যাখ্যা জানা অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামি আইনজ্ঞ বা ফকিহরা এই বিষয়ে বলেন, মূলত সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে কিছু কিছু মানুষের মনে এমন ভুল ধারণার সৃষ্টি হয় যে— কোরবানি যেহেতু কেবল চার পা বিশিষ্ট নির্দিষ্ট চতুষ্পদ প্রাণী দিয়েই সম্পন্ন করতে হয় এবং দু’পা বিশিষ্ট কোনো পাখি বা প্রাণী দ্বারা কোরবানি করা ইসলামে বৈধ নয়; সুতরাং কোরবানির পবিত্র দিনে দুই পা বিশিষ্ট কোনো প্রাণী সাধারণ খাওয়ার জন্য জবাই করাও যাবে না। আসলে ধর্মীয় চরম অজ্ঞতা ও লোকমুখের কুসংস্কারের কারণেই সমাজে যুগে যুগে এ ধরনের অমূলক ও ভিত্তিহীন ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে এর অবৈজ্ঞানিক প্রচলন হয়ে থাকে।

দেশের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক মুফতি রেজাউল করীম আবরার এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “কিছু কিছু মানুষের মনে যে ধারণা রয়েছে— ‘ঈদের দিন বা কোরবানির দিনগুলোতে হাঁস-মুরগি বা দু’পা বিশিষ্ট খাওয়ার জন্য হালাল কোনো পাখি বা প্রাণী জবাই করা যাবে না’— এটি সম্পূর্ণ একটি অমূলক ও মনগড়া ধারণা, পবিত্র ইসলাম ধর্মে এর বিন্দুমাত্র কোনো আইনি ভিত্তি নেই; তাই পরিবারের সাধারণ খাবারের চাহিদা মেটানোর জন্য কোরবানির দিনগুলোতেও হাঁস-মুরগি জবাই করাতে ইসলামের কোনো প্রকার বাধা বা সমস্যা নেই। তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মনে রাখতে হবে যে, এসব হাঁস-মুরগিকে কোনো অবস্থাতেই ‘কোরবানির নিয়তে’ বা কোরবানির বিকল্প হিসেবে জবাই করা যাবে না।”

ইসলামি শরিয়তের অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী, কেবল উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কোরবানি করা সম্পূর্ণ জায়েজ ও বৈধ। মানুষের ঘরে লালন-পালন করা এসব নির্দিষ্ট গৃহপালিত চতুষ্পদ পশু ছাড়া অন্য কোনো বন্য পশু যেমন— সুন্দরবনের হরিণ, নীলগাই বা বন্যগরু ইত্যাদি বনের প্রাণী দ্বারা কোরবানি করা ইসলামি আইনে কোনোভাবেই জায়েজ নয়।

উল্লেখ্য, আর্থিক ও শারীরিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অবহেলা করে যারা পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি দেয় না, তাদের ব্যাপারে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র হাদিস শরিফে অত্যন্ত কঠোর ও হুঁশিয়ারি বার্তা এসেছে। প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক নির্ভরযোগ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) পরিষ্কার ইরশাদ করেছেন, ‘যাঁর কোরবানি করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আছে, তবুও সে কোরবানি করল না; সে যেন আমাদের পবিত্র ঈদগাহের মাঠে নামাজ পড়তে না আসে।’

আরও পড়ুন