ঈদে বাড়ি ফেরা: এবারের যাত্রা স্বস্তির হবে তো?
আরাফাত নাফিজ
প্রকাশিত: ১৬ মে, ২০২৬, ০১:১৮
ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। আর সেই ঈদের আনন্দতো অনেকাংশে বেড়ে যখন প্রিয় মানুষগুলোর সাথে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যায়। সারাবছর কেবল এই কয়েকটি দিনের অপেক্ষায় দিন কাটে লাখো মানুষের। কিন্তু সেই আনন্দের দিনের পেছনেও যেন লুকিয়ে থাকে অদেখা এক আতঙ্ক। আর সেটা ঈদ যাত্রা। প্রিয় মুখগুলোকে দেখতে প্রাণের শহর ঢাকা ছাড়ে লাখো মানুষ। তাইতো সবার বাড়ি ফেরার পথে তৈরী হয় বিশৃঙ্খলা আর জনমনে জন্মে অশান্তি। ঈদে প্রধানত মানুষ বাস,ট্রেন ও লঞ্চে করে শহর ছাড়ে। তাইতো স্বাভাবিকবাবে চাপও বাড়বে এসকল পথে। যদিও পদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের প্রচেষ্টা থাকে সর্বোচ্চ তবুও ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি আর দূর্ঘটনার চিত্র এদেশের মানুষের কাছে নতুন কিছু নয়।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যান সমিতির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী গত ঈদুল ফিতর ২০২৬ এ সড়ক নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দূর্ঘটনায় ৩৯৪ টি নিরীহ প্রাণ অকালেই হারিয়ে গিয়েছে। আহতের সংখ্যাও প্রায়ই ১২৮৮ জন।
তাই ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করে মানুষকে স্বস্তির একটা ঈদ উপহার দিতে প্রয়োজন কার্যকর কিছু উদ্যোগ। প্রথমত সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের স্বমনয় থাকাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি।এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সরকারি চাকুরিজীবীদের কারো কারো ঈদের ছুটি আপোষ করা যেতে পারে। সকলের ছুটির ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। যাতে একই সাথে সকলের ছুটি হলে চাপ হওয়া এড়ানো যায়।
ঈদ যাত্রায় সড়কপথে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম যানজট। তাইতো যানজট নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। প্রায়ই প্রত্যক্ষ করা যায় যেখানে সেখানে বাস দাড়িয়ে যাত্রী তুলতে। ফলে সেই বাসের পেছনে দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যেন যানচলাচলে কোথাও বাধাপ্রাপ্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। টোল প্লাজাগুলোতে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করে দ্রুত টোল আদায়ের ব্যাবস্থা করে দিতে হবে।
এছাড়াও সড়কে দূর্ঘটনা রোধে চালকদের যথাযথ বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। লাইসেন্স এবং ফিটনেস ছাড়া যাতে কোন যান চলাচল করতে না পারেন সেদিকেও নজর রাখতে হবে। ভাঙা সড়ক দ্রুততম সময়ের মাঝেই ঠিক করতে হবে। সেই সাথে বাসে যাতে কোন ক্রমেই যাত্রীদের জিম্মি করে বেশি ভাড়া আদায় না করতে পারে এজন্য দরকার সরকারের কঠোর নজরদারি।
ঢাকায় বসবাসরত নাগরিকদের একটা বিরাট অংশ রেল পথে ঢাকা ছাড়েন। তাই রেলের উপর চাপও বাড়ে। ঈদ যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই তাই রেলের ইঞ্জিনগুলোকেও পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণে আগে থেকেই মনোযোগী হতে হবে। রেল পথের ঝুঁকি মোকাবেলায় আগে থেকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। এসকল পদক্ষেপ নিয়ে রেলের শিডিউল বিপর্যয় রোধ করা গেলেও রেল যাত্রার আরো এক আতঙ্কের নাম টিকেট। বিভিন্ন গণমাধ্যমের থেকে প্রতি বছরই টিকেট কালোবাজারির খবর পাওয়া যায়। অনলাইন থেকে অফলাইন সব ব্যবস্থার নানা ফাঁক ফোকর ব্যাবহার করে মানুষের বিশাল অস্তিত্ব কারন হয়ে দাড়ায় পাশাপাশি কালোবাজারে বেশী দামে টিকেট কেনা ছাড়া কোন উপায়ই থাকে না যাত্রীদের।
এত গেল সড়ক ও রেল পথের চিত্র। এর বাইরেও লঞ্চে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের বিশাল সংখ্যক মানুষ বাড়ি ফেরে। মোটামুটি স্বস্তির যাত্রা হলেও ব্যাপক যাত্রী চাপে লঞ্চেও নানা বিশৃঙ্খলার দেখা মেলে। গত ঈদে দুটি লঞ্চে মানুষের পিস্ট হওয়ার দৃশ্য তো পুরো বাংলাদেশেকেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এবার এমন কিছু দেখতে চায় না এই বাংলাদেশ। তাই নৌ পথে বাড়তি নজরদারি জরুরি। প্রথমমত সদরঘাটে পৌঁছানোর সড়কগুলোও যানজট মুক্ত করতে হবে। সময় অনুযায়ী লঞ্চ ছাড়া এবং লঞ্চে যাতে কোন ক্রমেই অতিরিক্ত যাত্রী না উড়তে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ট্রলার দিয়ে লঞ্চে উঠা নিষিদ্ধ করতে হবে।দেশব্যাপী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে মোবাইল কোর্ট পরিচালানা কার্যকর করতে হবে।
ঈদ যাত্রাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সামান্য কিছু পদক্ষেপই পারে পুরো ঈদ যাত্রার পরিস্থিতি। মনে রাখতে হবে ঈদ এদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আনন্দের বিষয়। এই আনন্দে একটা দূর্ঘটনা কারো জীবনের সব ঈদের আনন্দই বিষাদে পরিনত হতে পারে। তাই যাত্রীদের নিজেদেরও যথেষ্ট পরিমাণ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কখনোই সময়কে মূল্য দিয়ে জীবনকে হেলাফেলা করা যাবে না। সকল ভোগান্তি আর প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে এবারের ঈদ যাত্রা হোক ইতিহাসের সেরা স্বস্তির যাত্রা। একটা প্রাণও যেন অকালে হারিয়ে না যায়।
লেখক,
আরাফাত নাফিজ
শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
আরও পড়ুন
- • ফোর্বসের ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকায় জায়গা পেলেন হানিয়া আমির
- • ধর্মেন্দ্রর বায়োপিকে কে? জবাব দিলেন ববি
- • মেধা হারাচ্ছে দেশ
- • মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ
- • আবারো বাড়ল দেশের রিজার্ভ
- • আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, মিলল তদন্তের প্রতিবেদন
- • কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশি
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • নতুন গানে পরীমণি
- • কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
- • লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর দফায় দফায় পাল্টা হামলা
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
