০৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ০৫:৫২

শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫
শিরোনাম
৭ জুন থেকে মেট্রোরেলের শেষ ট্রেনে বাড়লো ২০ মিনিট জুলাই প্রতিবেদন নিয়ে আওয়ামী লীগের আপত্তি খারিজ করল জাতিসংঘ পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি হচ্ছেন কাজী সালাউদ্দিন মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পদ হারালেন যুগ্মসচিব প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর ঘিরে প্রস্তুতি, থাকছে যেসব কর্মসূচি ১৪ জুন কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রিপেইড মিটারে স্বস্তি, বাতিল মাসিক চার্জ দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৬৫

গল্প: ঈদের আগে আরেক ঈদ

গল্প: ঈদের আগে আরেক ঈদ

শাফায়াত হোসেন (সোহাগ)

প্রকাশিত: ২৪ মে, ২০২৬, ০০:৩০

হাজার রাতের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে আজ আমি নিজ দেশেই যেন এক প্রবাসী। শহরের ব্যস্ত রাস্তা আর কোলাহলময় জীবনের মাঝে গ্রাম যেন ধরা দিতে চায় না। আর ঘুম ভাঙে না ভোরে; কী করেই বা ভাঙবে বলো? নেই কোনো শালিক, দোয়েল, ময়না কিংবা টিয়া। আজ যেন তাদের সুমধুর কণ্ঠের গানগুলোও ভুলে গেছি। মন আর শান্ত থাকে না; ভোরের শান্ত শহরেও এখন বাজারের কোলাহল।

একটি গল্প বলি শোন তবে 
"​প্রথম ঢাকায় পা রাখি গত মাসের আঠারো তারিখে। সারাদিন এত হর্ন আর মানুষের সমাগম যে মনে হয় ব্রেইন ফুটন্ত পানির মাঝে টগবগ করছে। একদিন ভোরে উঠে বারান্দায় যাই সকালের ঢাকা দেখতে। হঠাৎ মনে হলো, ক্যামেরাটা বের করে ভিডিও করি। যেই ভাবনা সেই কাজ, তবে অবাক বিষয়—রেকর্ডিংয়ে এত শব্দ (ডেসিবল) সত্যিই অপ্রীতিকর। তখনই আমার অনুভব হয়, ঢাকা যেন জাহান্নামের দুনিয়া ভার্সন।"
এখানে পিচঢালা পথ আছে, কিন্তু মাটির গন্ধ নেই। হাজারো মানুষের ভিড়েও কেমন যেন এক তীব্র একাকীত্ব। বহুতল ভবনের দেয়ালগুলো যেন এক একটা খাঁচা, যেখানে বন্দি হয়ে আছে আমার মতো হাজারো তরুণের সোনালী স্বপ্ন।

​দেখতে দেখতে কয়েকটা দিন চলে গেল, কিন্তু তা যেন হাজার বছর পাড়ি দেওয়ার সমতুল্য। সামনে ঈদের ছুটি আসছে, মন যেন এক অদৃশ্য তৃষ্ণা দূর করার স্বপ্ন দেখছে। আমার মনে ভেসে আসছে এক কবিতা
​হে তালতলা,
আজও তোমার জন্য কাঁদে এ মন,
তুমি করো না আমায় আবাসন।
আমি ফিরে আসছি তোমার কোলে,
আমায় গ্রহণ করো ফুলের তোড়া দিয়ে।

​ওগো আমার জননী,
তোমার শিশু আসছে ফিরে কোলে,
আমায় গ্রহণ করো সাদরে।
পথিক যেমন তৃষ্ণায় থাকে কাতর,
আমিও তোমার ছোঁয়ার পাগল।

​কিন্তু বাড়ি ফেরার প্রশ্ন আসতেই ঈদ যেন মাটি হয়ে যায়। দুর্নীতির রোগে আক্রান্ত এ দেশে বাড়ি ফিরতে পারলেই যেন আরেকটি ঈদ পাওয়া যায়। সকাল আটটায় অধীর আগ্রহে বসে থাকি একটি ট্রেনের টিকিট কাটব বলে। তা কি আর সহজে সম্ভব হয়? প্রথম দিন রেলওয়ে ওয়েবসাইটে লগইনই হয় না। দ্বিতীয় দিন সার্ভার ডাউন। তৃতীয় দিন সিট পেয়েছি একটি, কিন্তু সেটি লো কোয়ালিটির। তবুও সেই টিকিটটাই কাটার চেষ্টা করছি, তাও সম্ভব হলো না। অবাক বিষয় কী জানেন? ৩০ সেকেন্ডে সব টিকিট শেষ! আরও মজার কথা, আধঘণ্টার মধ্যে ফেসবুক গ্রুপে চড়া দামে টিকিট বিক্রি শুরু। আপনারা ভাবুন, এটা কি বৈধ?ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিয়ে একদল মানুষ যখন উৎসবের আনন্দকে কালোবাজারির পণ্যে রূপান্তর করে, তখন বুকটা ভেঙে যায়। সাধারণ মানুষের পকেট কেটে যারা উৎসবের মরসুমে কোটিপতি হতে চায়, তাদের কি কোনো বিবেক নেই? এই সিন্ডিকেটের শেষ কোথায়?

​না হয় বেশি টাকা দিয়ে অবৈধ টিকিটই কাটলাম, কিন্তু স্টেশন মাস্টার চেক করার সময় এনআইডি চাইলে কীভাবে সত্যতা যাচাই করব? সবচেয়ে বড় কথা, বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন অনুযায়ী এভাবে টিকিট ক্রয় করে যাতায়াত করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আর আমি একজন ভার্সিটির ছাত্র হয়ে কী করে আইন লঙ্ঘন করি?

​গভীর ভাবনার পর দ্বিতীয় পথ ধরলাম বাস যাতায়াত। টিকিট কাটতে চললাম কাউন্টারে। বললাম—
— ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাব। ভাড়া কত রাখবেন?
— ১৫০০ টাকা।
— ভাড়া তো ৮০০ ছিল। ঈদের জন্য কি জোর করে বোনাস আদায় করছেন?
— ভাই, যাত্রীর অভাব নাই। আপনি কি যাবেন?

​বাবার সাথে পরামর্শ করলাম কী করা যায়। বাবা বললেন, "কী আর করার, চলে আসো।" অবশেষে ১৪৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে চললাম বাড়ির পথে। পথিমধ্যের গল্প যেন এক কাব্য, তার বর্ণনা আর নাই করলাম। আট ঘণ্টার যাত্রা টেনে নিয়ে গেল দশ ঘণ্টায়। বাসের ভেতরের সেই শান্ত পরিবেশ আর নেই।সিটের অতিরিক্ত যাত্রী, ইঞ্জিনের ভ্যাপসা গরম, আর জ্যামে আটকে থাকার অন্তহীন বিরক্তি যেন ধৈর্যের শেষ সীমা পরীক্ষা করছিল। প্রতিটা সেকেন্ড মনে হচ্ছিল একেকটা যুগ।

​সারারাতের যাত্রা শেষে ভোরের ঘুম-ঘুম ভাবের মধ্যে এক নির্মল, সুশীতল হাওয়া আমার দেহকে নতুন করে জাগ্রত করে। কানে বেজে ওঠে কোকিলের গান—এ যেন চিরপরিচিত সুর। আমি যেন শৈশবে ফিরে যাই। হঠাৎ চোখ মেলে দেখি, এ আমার তালতলা! গাড়ি থেকে নেমে রবের সৃষ্ট খালি পা ঘাসের ওপর রাখতেই যেন শিশিরবিন্দু আমায় নিমিষেই সুস্থ করে তোলে। এরপর ধানক্ষেতের মেঠোপথ ধরে আপন ঠিকানায় রওনা হলাম।

​বাড়ি পৌঁছাতেই মায়ের মুখের হাসি দূর করে দেয় সকল ক্লান্তি। বাবার ছোঁয়া আমায় এনে দেয় সজীবতা। ছোট্ট ভাইয়ের ডাকটুকু যেন কোটি টাকার সম্পদ, আর ছোট্ট বোনের ভালোবাসা যেন বিশ্ব জয় করার মতো। আজ ঈদের আগেই যেন আরেক উৎসব বিরাজ করছে এই হৃদয়বান মনে।শহরের জাঁকজমকপূর্ণ ঈদ আর নামী-দামী রেস্তোরাঁর খাবার যা দিতে পারেনি, মায়ের হাতের এক থালা সাধারণ ভাত আর এই চিরচেনা মেঠোপথ আমাকে সেই পরম শান্তি এনে দিয়েছে। সত্যিই, আত্মার টানে বাড়ি ফেরার এই আনন্দের কাছে পৃথিবীর সব ঐশ্বর্যই ফিকে।

লেখক,
শাফায়াত হোসেন (সোহাগ) 
শিক্ষার্থী,রসায়ন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন