বাড়ছে জলাতঙ্ক আতঙ্ক - পোষা বিড়াল এখন নীরব ঘাতক
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬, ১১:০২
একসময় জলাতঙ্ক বলতে কেবল কুকুরের কামড়কেই দায়ী করা হতো। তবে সেই চিত্র এখন বদলেছে। রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য বলছে, অ্যান্টি-রেবিস ভ্যাকসিন নিতে আসা রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশই বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত। কয়েক বছর আগেও এ হার ছিল মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ।
হাসপাতালের এক নার্স জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পোষা বিড়াল থেকেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। অনেকেই শখ করে বিড়াল পালন করলেও নিয়মিত টিকা দেওয়ার বিষয়ে উদাসীন থাকছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে জলাতঙ্কের সংক্রমণ ও মৃত্যু—দুটিই বাড়ছে। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হন ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ, মারা যান ৪২ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২২ হাজারের বেশি, মৃত্যু ৫৮। ২০২৫ সালে আক্রান্ত প্রায় দেড় লাখ, মৃত্যু ৫৯। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত আক্রান্ত ৩৬ হাজারের বেশি এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। বর্তমানে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ নতুন রোগী হাসপাতালে আসছেন।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই ভুল করে মনে করেন ঘরের পোষা প্রাণীর মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ায় না। বাস্তবে টিকাবিহীন যে কোনো প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ই ঝুঁকিপূর্ণ। কামড়ের পর ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। লক্ষণ প্রকাশ পেলে রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব।
তবে প্রতিরোধের পথ রয়েছে। কামড় বা আঁচড়ের পরপরই ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত ভ্যাকসিন নিলে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কুকুর ও বিড়ালের রেবিস ভ্যাকসিনের মজুদ গত বছরের এপ্রিলেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে টিকাদান কার্যক্রম কার্যত বন্ধ। নতুন প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হতে আরও সময় লাগতে পারে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাকসিনের ঘাটতি, আর কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মানুষকে টিকা দিয়ে জলাতঙ্ক নির্মূল করা সম্ভব নয়। প্রাণীর টিকাদান নিশ্চিত করাই এই রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় টানা তিন বছর ৭০ শতাংশ কুকুরকে টিকার আওতায় আনলে সেই অঞ্চলকে জলাতঙ্কমুক্ত করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে এ হার এখন প্রায় শূন্য।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পোষা কুকুর বা বিড়াল পালন করলে নিয়মিত রেবিস টিকা এবং বার্ষিক বুস্টার ডোজ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, এই প্রতিরোধযোগ্য রোগই বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।
আরও পড়ুন
- • ফোর্বসের ‘৩০ আন্ডার ৩০ এশিয়া’ তালিকায় জায়গা পেলেন হানিয়া আমির
- • ধর্মেন্দ্রর বায়োপিকে কে? জবাব দিলেন ববি
- • মেধা হারাচ্ছে দেশ
- • মাদকের ছোবলে হারিয়ে যাচ্ছে তরুন সমাজ
- • আবারো বাড়ল দেশের রিজার্ভ
- • আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, মিলল তদন্তের প্রতিবেদন
- • কুয়েতে ড্রোন হামলায় আহত ৪ বাংলাদেশি
- • ৫ দিনের বৃষ্টির খবর দিল আবহাওয়া অফিস
- • ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে থাকছে না সাড়ে সাত শতাংশ কর
- • ফ্লোরিডা নয়, ডোবার পাশেই মিলবে মশা দমনের শিক্ষা: প্রধানমন্ত্রী
- • বৈশ্বিক অস্থিরতায় স্বর্ণের দামে নতুন প্রভাব
- • পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
- • ত্যাগের মহিমায় উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
- • জানা গেলো মৃত নুরজাহান বেগমের তিন ছেলে ও এক কন্যার পরিচয়
- • নতুন গানে পরীমণি
- • কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
- • লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে হিজবুল্লাহর দফায় দফায় পাল্টা হামলা
- • প্রশাসনে বড় রদবদল, সাত অতিরিক্ত সচিবকে নতুন দায়িত্ব
